২২ জানুয়ারি সকাল সাতটায় নির্য়াকাণ্ডে চার দোষীর ফাঁসির নির্দেশ দিয়েছে  দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্ট। আর এই রায়ের পরেই সুপ্রিমকোর্টে প্রাণভিক্ষার আবেদন জানায় দুই অপরাধী। সেই আবেদনের শুনানি হতে চলেছে আগামী ১৪ জানুয়ারি।

শীর্ষ আদালতের ৫ বিচারপতি এই ডিভিশন বেঞ্চ এই বিষয়ে নিজেদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন। বিচারপতি এনভি রমনা, অরুণ মিশ্র, আরএফ নরিম্যান, আর ভানুমতী এবং অশোক ভূষণের ডিভিশন বেঞ্চে  আবেদনার শুনানি হবে। 

দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্ট মৃত্যু পরোয়ানা জারির দু'দিনের মধ্যে  সুপ্রিম কোর্টে কিউরেটিভ পিটিশন ফাইল করে নির্ভয়াকাণ্ডে অন্যতম ধর্ষক ২৫ বছরের বিনয় শর্মা। পরে আরেক অপরাধী ৩২ বছরের মুকেশ সিং প্রাণক্ষিক্ষার আবেদন জানায়। 

আগামী ২২ জানুয়ারি সাকটায় নির্ভয়ার চার অপরাধীর ফাঁসি হওয়ার কথা। বিনয় ও মুকেশ ছাড়াও ফাঁসি হবে পবন গুপ্তা ও অক্ষয় কুমার সিং। তিহাড় জেলে চারজনকে একসঙ্গে ফাঁসি দেওয়া হবে। এই প্রথম দেশএ একসঙ্গে চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হল।

 

 

মৃত্যু পরোয়ানার তারিখ ঘোষণা হতেই ভেঙে পড়ে চার অপরাধী। যদিও শেষবারের মতো এদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হবে। 

২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর দিল্লির একটি চলন্ত বাসে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও নির্যাতন করা হয় ২৩ বছরের প্যারামেডিক্যালের এক ছাত্রীকে। ১৩ দিনের লড়াই শেষে ২৯ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে মৃত্যু হয় নির্যাতিতার। এরপরেই ঘটনায় যুক্ত ছয় ধর্ষককে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ। দেশজুড়ে পড়ে যায় আলোড়ন। এদের মধ্যে একজন নাবালক হওয়ায় মুক্তি পেলেও বিচার চলতে থাকে ৫ অভিযুক্তের। এদের মধ্যে এক অভিযুক্ত জেলের মধ্যে আত্মহত্যা করে। 

২০১৭ সালে ফাঁসির সাজা হয় নির্ভয়াকাণ্ডের চার অভিযুক্তের। ২০১৮ সালের জুলাইতে সুপ্রিম কোর্ট চার অপরাধীর রায়ের পূনর্মূল্যায়ণের আবেদন খারিজ করে দেয় । রাষ্ট্রপতিও নির্ভয়াকাণ্ডের দোষীদের মুত্যুদণ্ডের আদেশ কার্যকর করতে সম্মতি দেন।