দুর্দান্ত এক আবিষ্কার করলেন উত্তরপ্রদেশের বারাণসীর এক যুবক। মহিলাদের ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য তিনি একটি নতুন  যন্ত্র তৈরি করেছেন। ওপর থেকে দেখলে সাধারণ লিপস্টিক। কিন্তু সেটাই আসলে অস্ত্র।

শ্যাম চৌরাসিয়া একজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী বিজ্ঞানী। তিনিই তৈরি করেছেন একটি যন্ত্র, যাকে নাম দিয়েছেন একটি 'লিপস্টিক বন্দুক'। তবে এটি থেকে সত্যি সত্যি গুলি বের হয় না। শুধু গুলি ছোড়ার মতো বিস্ফোরণের শব্দ হয়। একই সঙ্গে পুলিশে জরুরী নম্বর ১১২ তে 'ডিসট্রেস সিগনাল' বা সংকট সংকেত প্রেরণ করে।

শ্যাম চৌরাসিয়া জানিয়েছেন, সাধারণ লিপস্টিক-এর কভারেই তিনি একটি অতিরিক্ত সকেট লাগিয়েছেন। এই সকেট যে কোনো লিপস্টিকেই লাগিয়ে নেওয়া যেতে পারে। তিনি বলেছেন, কোনও মহিলা যদি অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়েন, তবে তাঁকে শুধু সকেটে লাগানো বোতামটি টিপতে হবে। তাহলেই এটি থেকে বিস্ফোরণের মতো জোরালো শব্দ হবে। একই সঙ্গে ১১২-তে একটি বার্তাও প্রেরণ করবে। এটি বহন করা সহজ। আর যেহেতু এটি সাধারণ লিপস্টিকের সঙ্গে লাগানো হয়েছে, তাই এটি দেখে বাইরে থেকে কোনও সন্দেহ করারও উপায় নেই। এর জন্য কোনও ব্যাটারিও লাগবে না। মোবাইলের মতো চার্জ দিলেই হবে। ব্লুটুথ-এর মাধ্যমে মোবাইলের সঙ্গে এর সংযোগ থাকে।

বারামসীর এই বিজ্ঞানী আরও জানিয়েচেন, যন্ত্রটি তৈরি করতে তাঁর মাত্র এক মাস সময় লেগেছে। এই যন্ত্র কিনতে চাইলে করচ পড়বে ৬০০ টাকার মতো। আপাতত তিনি এই যন্ত্রের পেটেন্ট পাওয়ার চেষ্টা করছেন।

বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শেফালি রাই ইতিমধ্যেই এই গ্যাজেটটি ব্যবহার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এটি বহন করা সুবিধাজনক এবং এর বিস্ফোরণের শব্দ সত্যি সত্যি ভয় পাইয়ে দেওয়ার মতো। আর হাতে ধরে থাকলে কেউ বুঝতেও পারে না, কারণ দেখলে মনে হয় সাধারণ লিপস্টিক। তাই এই যন্ত্র ভারতের মতো দেশে, যেখানে নারীর বিরুদ্ধে অপরাধের সংখ্যা ক্রমে বাড়ছে, সেখানে দারুণ সময়োপোযোগী বলে মনে করছেন শেফালি।