দেশে করোনাভাইরাসের দাপট বাড়তে বাড়তে এখন প্রায় চূড়ায় পৌঁছে গিয়েছে বলে মনে করছেন সংক্রমণ বিশেষজ্ঞরা। এরই মধ্যে শুক্রবার, ৩১ জুলাই শেষ হচ্ছে 'আনলক ২.০' এর মেয়াদ। এই মহূর্তে কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যেই অর্থনৈতিক কার্যক্রমের তালা আরও একটু খুলতে চলেছে মোদী সরকার। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে রবিবার গিয়েছে, এই মুহূর্তে সরকারি কর্মকর্তারা আনলক ৩.০-এর গাইডলাইন বা নির্দেশিকা তৈরির কাজ করছেন। অগাস্ট মাসের শুরু থেকেই কার্যকর করা হবে এই নির্দেশিকা।

সূত্রের মতে, আনলক ৩.০-তে লকডাউনের বিধিনিষেধ আরও কিছুটা শিথিল করা হবে। ১ অগাস্ট থেকে দেশজুড়ে ফের খুলে যেতে পারে সিনেমা হলগুলির দরজা। ইতিমধ্যেই তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে সিনেমা হলগুলি ফের চালু করার প্রস্তাব দিয়েছে। সিনেমা হলের মালিকরা ৫০ শতাংশ আসন নিয়ে সিনেমা হলগুলি ফের চালু করার আবেদন করেছিলেন। তবে সরকার প্রাথমিকভাবে ২৫ শতাংশ আসন নিয়ে হল চালু করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে বলে খবর।

যারা নিয়মিত শরীর চর্চা করেন, তাঁদের জন্যও থাকতে পারে সুখবর। কারণ আনলক প্রক্রিয়ার তৃতীয় দফায় তাদের দাবি মেনে খুলতে পারে জিমনেশিয়ামগুলিও।

তবে দুই ক্ষেত্রেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, নিয়মিত স্যানিটাইজ করার মতো কয়েকটি কঠোর নির্দেশিকা চাপতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আনলক ৩-এও কিছু কিছু বিষয়ে বিধিনিষেধ থাকবেই বলে দাবি সরকারি সূত্রটির। এরমধ্যে অবশ্যই রয়েছে স্কুল-কলেজের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এইমস হাসপাতালের গবেষক ও সারা দেশের আরও বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় সংক্রমণ বিশেষজ্ঞ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি খোলার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। তবে তারপরেও এই বিষয়ে মোদী সরকার ঝুঁকি নেবে না বলেই এখনও পর্যন্ত খবর পাওয়া যাচ্ছে।

মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক, ইতিমধ্য়েই স্কুল শিক্ষা সচিব অনিতা কারওয়ালের সভাপতিত্বে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফের চালু করার বিষয়ে রাজ্যগুলির সঙ্গে পরামর্শ করেছে। এইচআরডি মন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল জানিয়েছেন, এই বিষয়ে অভিভাবকদের কাছ থেকেও মতামত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রক সূত্রে খবর, অভিভাবকরাই এখনই স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্য়ালয় চালু করার বিরুদ্ধেই মত দিয়েছেন।

এর সঙ্গে সারা দেশে এখনও মেট্রোরেল পরিষেবা বন্ধই থাকবে বলে জানা যাচ্ছে।

তবে গত দুই দফার মতোই তৃতীয় দফাতেও কেন্দ্রীয় নির্দেশিকার পর-ও রাজ্যগুলির হাতে পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজস্ব নির্দেশিকা জারির ক্ষমতা দেওয়া হবে। তাই কেন্দ্রীয় সরকার অনুমতি দিলেও, অনেক রাজ্য়েই সিনেমা হল বা জিম এখনও বন্ধই থাকতে পারে।