মুখ দিয়ে তার সাবলীলভাবে বেরিয়ে আসছে ইংরাজি। দাবি করছেন ইন্দোরের দেবী অহল্যা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেটেরিয়াল সায়েন্সে তিনি পিএইচডি করেছেন। অথচ এখন শহরের রাস্তায় একটা ঠেলা গাড়িতে সবজি  বিক্রি করেন তিনি। সেই ঠেলা সরিয়ে দিয়েছিল ইন্দোর পুর কর্পোরেশন। পুরসভার ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে তারই প্রতিবাদ করছিলেন তিনি। আর তারপরই তাঁর সেই গড়গড়িয়ে ইংরাজি বলা, যুক্তিসম্মত প্রতিবাদের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

 ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার। ওই মহিলা সবজি বিক্রেতার নাম রাইসা আনসারি। লকডাউনের সময় ইন্দোরের রাস্তার ঠেলাগাড়িতে করে সবজি বিক্রি করা চলবে না বলে তাঁর এবং আরও বহু ফল ও সবজি বিক্রেতার ঠেলাগাড়ি সরিয়ে দিয়েছিল পুর কর্তৃপক্ষ। এরপরই সাবলীল ইংরেজিতে তাঁর প্রতিবাদ করে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে পুর আধিকারিকরা সবজি বিক্রেতাদের হেনস্থা করছেন।

ভাইরাল ভিডিওতে, নিজেকে রিসার্চ স্কলার বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর দাবি,  করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ইন্দোরের বাজারগুলিতে বারবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ফল এবং সবজি বিক্রেতারা দারুণ সমস্যায় পড়েছে। এমনিতেই বাজার  মাঝে মধ্যেই বন্ধ থাকে। তারপর এই সময় ক্রেতাদের ভিড়ও খুব কম। তাদের দোকানে মোটেও কোনও হুড়োহুড়ি ছিল না, তাসত্ত্বেও পুর কর্মকর্তারা তাদের সেখান থেকে হঠিয়ে দিয়েছেন।

রাইসা জানান, তাঁর সঙ্গে দাঁড়িয়ে প্রত্যেক ফল ও সবজি বিক্রেতাই তাঁর পরিবার ও বন্ধুবান্ধব। তাঁদের সকলের নিজেদের পরিবার রয়েছে। এইভাবে পুর কর্তারা হেনস্থা করতে থাকলে, তাদের চলবে কী করে? তারা কীভাবে বাঁচবেন? কীভাবে উপার্জন করবেন?

কিন্তু, একজন রিসার্চ স্কলার হয়েও তিনি আরও ভালো কোনও কাজ বেছে নিলেন না কেন? রাইসা আনসারি সাফ জানিয়েছেন ভালো কোনও চাকরি তিনি পাননি। কারণ মুসলমানদের থেকে করোনাভাইরাস ছড়াচ্ছে, এইরকম একটি সাধারণ ধারণা তৈরি হয়েছে। কাজেই তাঁর নাম রাইসা আনসারি শুনেই কোনও কলেজ বা গবেষণা প্রতিষ্ঠান তাঁকে চাকরি দিতে রাজি হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।