বিজয় মালিয়াকে বলা হত 'কিং অব গুড টাইমস', অর্থাৎ 'সুসময়ের রাজা'। কিন্তু বুধবার রাতেই সম্ভবত তার সুসময় শেষ হচ্ছে। সংবাদ সংস্থা আইএনএস জানিয়েছে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বুধবার রাতে অথবা বৃহস্পতিবার ভোরেই ভারতে প্রত্যর্পণ করা হতে পারে তাকে। তদন্তকারী সংস্থাগুলির সূত্রে খবর বুধবার গভীর রাতে অথবা বৃহস্পতিবার ভোরে মুম্বই এসে পৌঁছবে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় মদ ব্যবসায়ী। যদি সে রাতে এসে পৌঁছায় তবে তাকে রাত কাটাতে হবে মুম্বইয়ের সিবিআই অফিসে। আর সকালে পৌঁছলে সরাসরি তাকে তোলা হবে এজলাশে।

বিদেশমন্ত্রক বা ভারত সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য এই বিষয়ে কোনও নিশ্চিত খবর দেওয়া হয়নি। তবে জানা গিয়েছে, মালিয়া যখনই ভারতে পা রাখবে, তাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত থাকবে এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট (ইডি) এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)-এর কর্মকর্তারা। দুই সংস্থাই বিজয় মালিয়াকে হেফাজতে নেবে।

বিজয় মাল্যর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ভারতীয় ব্যাঙ্ক থেকে ৯০০০ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। মদ ব্যবসার পাশাপাশি বিজয় মালিয়া কিংফিশার এয়ারলাইন্স নামে একটি উড়ান সংস্থা চালু করেছিলেন। সেই এয়ারলাইন্সের ব্যবসায়ে মাত্রাতিরিক্ত আভিজাত্য যোগ করার প্রবণতাই তাঁর কাল হয়েছিল বলে মনে করা হয়।

উড়ান সংস্থাকে রক্ষা করতে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে বিপুল ঋণ নিয়েছিল বিজয় মালিয়া। শেষ পর্যন্ত সেইসব ঋণ শোধ না করেই সে ২০১৬ সালের ২ মার্চ দেশ ছেড়ে পালিয়ে ব্রিটেনে চলে গিয়েছিল। ২০১৯ সালের জানুয়ারী মাসে নয়া আইন অনুসারে তাকে পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী হিসাবে ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার।

এর আগে বিজয় মালিয়া তাকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার বিরোধিতা করে আবেদন করেছিলেন ব্রিটেনের কোর্টে। ভারতীয় কারাগারের অব্যবস্থা নিয়ে তিনি অভিয়োগ করেছিলেন। ২০১৮ সালের অগাস্টে সেই আবেদন অনুসারে লন্ডনের এক আদালত ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে মালিয়াকে কোন কারাগারে ররাখা হবে, তার বিশদ বিবরণ দিতে বলেছিল। ভারতীয় সংস্থাগুলি মুম্বইয়ের আর্থার রোড কারাগারে একটি কক্ষের ভিডিও তুলে পাঠিয়েছিল ইংল্যান্ডে। ইংরেজ আদালতে জানানো হয়েছিল প্রত্যার্পণের পর তাকে আর্থার রোড জেল কমপ্লেক্সের একটি দ্বিতল ভবনের উচ্চ সুরক্ষাযুক্ত ব্যারাকে রাখা হবে।

আর্থার রোড জেলে সাধারণত অপরাধ জগত এবং সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলির কুখ্যাত ব্যক্তিদের রাখা হয়। মালিয়াকে যে উচ্চ সুরক্ষাযুক্ত কক্ষে রাখা হবে সেই রকম এক জেল কক্ষেই রাখা হয়েছিল ২৬/১১ মুম্বই হামলার একমাত্র গ্রেফতার হওয়া সন্ত্রাসবাদী আজমল কাসবকে। এছাড়া এই জেলে আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন আবু সালেম, ছোটা রাজন, মুস্তাফা দোসার মতো অপরাধীদের রাখা হয়েছিল। আছেন মিডিয়া ব্যারন পিটার মুখোপাধ্যায় বা পিএনবি জালিয়াতির মূল আসামি বিপুল আম্বানির মতো হাইপ্রোফাইল অর্থনৈতিক অপরাধীরাও।

গত ১৪ মে-ই মালিয়ার ভারতে ফেরাটা একরকম নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। নিম্ন আদালতে ধাক্কা খেয়ে ব্রিটেনের শীর্ষ আদালতেও সে ভারতে প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে আবেদন করেছিল। কিন্তু ওই দিন ব্রিটেনের সুপ্রিম কোর্টও তার আবেদন খারিজ করে দেয়।