দিল্লিতে কিছু চরমপন্থী মুসলমানদের হাতে, দরিদ্র পশ্চাৎপদ শ্রেণির গাড়ি চালকের ছেলে রাহুল কান্দেলার নির্মম হত্যার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। সোমবার এই বিষয়ে এক বিবৃতি প্রকাশ করে ভিএইচপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুরেন্দ্র জৈন প্রশ্ন করেছেন, ১৯ বছরের দরিদ্র হিন্দু ছেলেটির কোনও মুসলিম মহিলার সঙ্গে প্রেম কি এমন অপরাধ যে জিহাদিরা তাকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করবে? তিনি আরও বলেন,যখনই কোনও হিন্দু ছেলে কোনও মুসলমান মেয়ের প্রেমে পড়ে, তখন সেই ছেলেটিকে মৃত্যুদণ্ড পাওয়ার মতো অপরাধী গন্য করে চরমপন্থী মুসলমান সমাজ। কিন্তু, যখন একজন মুসলমান ছেলে জোর করে বা এমনকি প্রতারণা করেও কোনও হিন্দু মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে, তখন তাকে তারা অপরাধী মনে করে না। এটা কোনও সভ্য সমাজের লক্ষণ হতে পারে না বলে অভিযোগ করেছেন জৈন।

এই হিন্দুত্ববাদী নেতার মতে গোটা বিশ্বে ভারতেই মুসলিম সমাজ সবচেয়ে সুখী। তা শুধুমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু সমাজের সদিচ্ছা এবং সহনশীলতার কারণেই সম্ভব হয়েছে। তা সত্ত্বেও, মুসলিম সমাজের একটা বড় অংশ হিন্দুদের প্রতি মনে হিংসা, ঘৃণা পোষণ করেন। তাঁর অভিযোগ তুচ্ছ বিষয়েও হিন্দুদের গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে তারা। সুরেন্দ্র জৌন-এর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত চার-পাঁচ বছরে দেশে জিহাদীদের গণপিটুনিতে হিন্দুদের হত্যার ৭৩ টিরও বেশি ঘটনা ঘটেছে। শুধু দিল্লিতেইগত ৫ বছরে হিন্দুদের উপর ৯ টিরও বেশি মব লিঞ্চিং-এর ঘটনা ঘটেছে।

শুধু গণপিটুনীতে হিন্দুদের হত্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করাই নয়, এই অবস্তার পরিবর্তনের জন্য ভিএইচপি মুসলিম সমাজের নেতাদের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছে। মুসলমান সমাজের যে অংশ এই ধরণের জিহাদি মানসিকতা পোষণ করে, তাদের মনানসিকতার পরিবর্তনের জন্য মুসলিম নেতাদের সক্রিয় হতে অনুরোধ করেছে তারা। জিহাদের রাস্তা থেকে মুসলমান যুব সমাজকে সহাবস্থানের পথে নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে। সেইসঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়েছে হিন্দু সমাজের সহনশীলতাকে দুর্বলতা হিসাবে যেন না নেওয়া হয়।

তবে এই এই ধর্মান্ধতা এবং হিংস্র বিদ্বেষ প্রচারের জন্য 'তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ' শিবিরকেও সমানভাবে দায়ী করেছে ভিএইচপি। তাদের অভিযোগ মুসলিম সমাজের কোনও ব্যক্তি আক্রান্ত হলেই কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সঙ্গে তারা পুরো হিন্দু সমাজ এবং গোটা দেশের বিরুদ্ধে হইচই শুরু করে দেয় ধর্মনিরপেক্ষরা। কিন্তু, রাহুলের মতো পঞ্চাশজন যুবকের হত্যার পরও তাদের মুখ থেকে শোকবার্তা বের হয় না। হাথরসের ধর্ষণের ঘটনাতেও এই ধর্মনিরপেক্ষ অংশ 'হিন্দু-মুসলমান দেখার অপরাধ' করেছে অভিযোগ করে ভিএইচপি নেতা বলেছেন, এই ঘটনাগুলি যে তাদের কাছে শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থ পূরণের মাধ্যম তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। একইভাবে ভীম সেনার মতো দলিত সংগঠনগুলির বিরুদ্ধেও নিজস্ব স্বার্থে দলিত ও দেশবিরোধী ভূমিকা পালনের অভিযোগ করা হয়েছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের পক্ষ থেকে।