দেশের নিরাপত্তা ও সার্বোভৌম্যত্বের কথা মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় সরকর টিকটক, ইউসি ব্রাউজারসহ ৫৯টি চিনা অ্যাপ রাতারাতি ব্যান করে দিয়েছেন। টিকটক ব্যান হওয়ায়  মাথা তুলে দাঁড়াতে শুরু করেছে টিকটকের প্রতিপক্ষ দেশীয় অ্যাপ রোপসো, চিঙ্গারি মিত্রোঁ। প্রধানমন্ত্রীর আন্ত নির্ভর ভারত অভিযানে এই দেশীয় অ্যাপগুলি আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেও মনে করছেন অনেকে। 


নেটদুনিয়ার খবর এই মুহূর্তে সব থেকে ভালো জায়গায় রয়েছে রোপসো। বর্তমানে অ্যানরয়েড ফোনের মাধ্যমে প্রায় ৮০ মিলিয়ন মানুষ এই অ্যাপ ডাউনলোড করেছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই গ্রাহকের সংখ্যা ১০০ মিলিয়ন হয়ে যাবে বলেই মনে করছেন  কর্তৃপক্ষ। 

টিকটকের আগে থেকেই ভারতে রোপোসোর অস্তিত্ব বর্তমান ছিল।  রোপসো হল ভারতীয় মানিকানাধীন একটি ভিডিও শেয়ারিং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম। ২০১৯ যার মালিকানা রয়েছে গ্নানস ইনমোবি প্রাইভেট লিমিটেডের হাতে, মূল অফিস গুরুগ্রামে। দিল্লি আইআইটির তিন প্রাক্তন ছাত্র মায়াঙ্ক ভঙ্গাদিয়া, অবিনাশ সাক্সেনা ও দক্ষ শুভঙ্কের ব্রেইন চাইল্ড ছিল এটি। ২০১৪ সালে এই অ্যাপ তৈরি করেছিলেন তাঁরা।  পরবর্তীকালে ২.০ সংস্করণও প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু টিকটকের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ক্রমশই পিছিয়ে পড়তে থাকে রোপসো। 

তবে বর্তমানে টিকটক ব্যান হওয়ায় এই অ্যাপটি আবারও মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে। মায়াঙ্কের কথায় টকটক ভারতের বাজারে আসার আগেই রোপসো-র ৫০ মিলিয়ন গ্রাহক ছিল। তিনি আরও জানিয়েছেন ১৫ থেকে ৩৫ বছরের বয়সের ব্যবহারকারীদের কাছে এটি খুবই জনপ্রিয়। এটি টিভির মত ব্রাউসিং পদ্ধতিও সরবরাহ করে। ব্যবহারকারীরা নিজেদের ভিডিও বা ছবিগুলি সম্পাদনা করতেও সক্ষম হয়। ভিডিও আপলোড সিস্টেমও খুব সহজ বলে দাবি করেছে সংস্থা। 

অন্যদিকে ক্রমশই সক্রিয় হচ্ছে ভারতীয় অন্য একটি অ্যাপ চিঙ্গারি। বর্তমানে প্রায় ১৫ মিলিয়ন মানুষ এটি ডাউনলোড করেছেন। প্রতিদিনই গ্রাহকের সংখ্যা বাড়ছে ২-৩ মিলিয়ন। প্রতিষ্ঠাতা সুমিত ঘোষ জানিয়েছেন, ভারতীয় জনসাধারণ যে তিনটি প্রধান জিনিস ব্যবহার করেছেন সেগুলি হল বিনোদন, সংবাদ ও মোবাইল গেমস। প্রতিটি রয়েছে চিঙ্গারিতে। এদেশে টিকটক নিষিদ্ধ হওয়ার পর টিকটকের গ্রহক ও ব্যবহারকারীরা যাতে তাঁদের অ্যাপটি ব্যবহার করেন সেদিকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছ। প্রতিভাবানদের জায়গা করে দেওয়ার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপও তাঁরা ইতিমধ্যে গ্রহণ করেছেন বলেও জানিয়েছেন। জনপ্রিয় ভিডিও নির্মাতাদের অর্থ প্রদান করার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে  কর্তৃপক্ষ। তিনি আরও বলেছেন তাঁদের মূল লক্ষ্যই হয় এক অ্যাপকে বিশ্বব্যাপী করে তোলা। তিনি আরও বলেন ভারতীয় সংস্থা হিসেবে কাজ করলেও বিশ্বের বাজারে এই অ্যাপকে জনপ্রিয় করে তোলার জন্য সবরকম প্রচেষ্টা শুরু হয়েগেছে।