এখন আর শুধু জ্বর বা গলা ব্যাথা নয় পেটখারাপ বা বমি বমিভাব থাকলেও আপনি করোনাভাইরাসের সংক্রমিত হতে পারেন। করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের পর্যবেক্ষণ করে চিকিৎসকরাই আরও নতুন ছটি উপসর্গ খুঁজে পেয়েছে বলেও দাবি করেছেন। আর এই কারণে করোনাভাইরাসে সংক্রমিতদের চিহ্নিত করতে দেরী হচ্ছে বলেও  রীতিমত উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা। 
 

হায়দরাবাদের একটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন তাঁদের হাসপাতালে এমন কয়েকজন রোগী এসেছেন যাঁদের জ্বর বা গলাব্যাথা ছিল না। তাঁদের মধ্যে কেউ ভুগছিলেন ডায়েরিয়ায়। কারও আবার বমি হচ্ছিল। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি হয়। কিন্তু ভর্তির কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যু হয়েছিল তাঁদের। পরে পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে মৃতরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ যাঁরা পেটের সমস্যাসহ নানাবিধ সমস্যায় ভুগছেন তাঁদেরও করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কারণ বর্তমানে নতুন এমন উপসর্গের সন্ধান পাওয়া গেছে যা রীতিমত বিভ্রান্তিকর বলেও দাবি করেছেন চিকিৎসকরা। 


একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে ২০ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ৬৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তাদের মধ্যে ৩০ জনই সঠিক চিকিৎসা পাওয়ার আগেই মারা গিয়েছেন। যাঁদের শ্বাসকষ্ট বা জ্বর ছিল না। তাই হাসপাতালে ভর্তির সঙ্গে সঙ্গেই করোনা পরীক্ষাও করা হয়নি তাঁদের। 

গত এপ্রিল মাস থেকেই ৬টি নতুন উপসর্গ দেখআ দিয়েছে বলে দাবি চিকিৎসকদের একাংশের। রোগ নিয়ন্ত্রণ প্রতিরোধ কেন্দ্র তাই নতুন ছটি উপসর্গকেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণের   লক্ষণের তালিকায় যোগ করেছে। নতুন উপসর্গগুলি হলঃ
ঠান্ডা লাগা, বারবার কাঁপুনি দেওয়া, পেশীর ব্যাথা, মাথা ব্যাথা, গলা ব্যাথা আর স্বাদ বা গন্ধ নিতে সমস্যা তৈরি হওয়ায়। 

লাল ফিতের জট এড়াতেই পরামর্শ, 'কোভ্যাক্সিন' নিয়ে আইসিএমআর-এর নতুন বিবৃত

'আমেরিকা ভালোবাসে ভারতকে', মোদীকে ধন্যবাদ জানিয়েছে বার্তা মার্কিন প্রেসিডেন্টের ...

নতুন ও পুরনো মিলিয়ে করোনাভাইরাসের লক্ষণগুলি হল
জ্বর বা ঠান্ডা লাগা, কাশি, শ্বাসকষ্ট হওয়া, ক্লান্তি লাগা, পেশী বা শরীরে যন্ত্রণা, মাথা ব্যাথা, স্বাদ ও গন্ধের সমস্যা হওয়া, গলায় ব্যাথা, বমি বমি ভাব আর ডায়েরিয়া, নাক দিয়ে জল পড়া। 

করোনা মোকাবিলায় 'গোল্ড মাস্ক' পুনের বাসিন্দার, রুপো থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে অভিনব উদ্যোগ ...
কয়েকজন বিশেষজ্ঞ মনে করছেন করোনাভাইরাস বেঁচে থাকার জন্য নিজের চরিত্র পরিবর্তন করছে। এক চিকিৎসক মনে করছেন, খাবর থেকে সংক্রমণ বা বায়ু পরিবর্তনের ফলে পেট খারাপ হওয়া খুবই স্বাভাবিক। তিনি বলেন করোনাভাইরাস ফুসফুসের পরিবর্তে প্রথমে গ্যাস্ট্রো ইনস্টিনাল  ট্রাকে আক্রমণ করেছে। যার ফলেই মারাত্মক ডায়েরিয়া ও বমি বমি ভাব লক্ষ্য করা গেছে। যার ফলে ডিহাইড্রেশন হয়। আক্রান্ত খুবই দুর্বল হয়ে যায়। দেহে অক্সিজেনের স্তরের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নামতে থাকে ব্লাড প্রেসার, সুগার, চিনি। যা যেকোনও ব্যক্তির ক্ষেত্রেই বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই বর্তমানে পেট খারাপ হলেও চিকিৎসকরা করোনা পরীক্ষা করার পরামর্শ দিচ্ছে। পাশাপাশি সতর্ক থাকারও পরামর্শ দিচ্ছেন। চিকিৎসকদের কথায় করোনাভাইরাসের জীবাণু এখন আর শুধু বুকে নয়। পেটেও আক্রমণ চালাচ্ছে।