সোশ্য়াল মিডিয়ায় 'লাল সালাম' বা 'কমরেড' লিখলে কিংবা ভ্লাদিমির লেনিন-এর ছবি আপলোড করলে এখন ভারতে জেল হতে পারে। আটক করা হতে পারে বেআইনী কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন বা ইউএপিএ-র অধীনে। অন্তত, অসমের কৃষক নেতা অখিল গগৈ-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী বিট্টু সোনওয়ালের ক্ষেত্রে এমনটাই করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ।

গত ২৯ মে তারিখে তারা এই মামলার যে অভিযোগপত্র পেশ করেছে সেখানে বিট্টুর অপরাধের বিবরণে বলা হয়েছে, তিনি তাঁর কয়েকজন বন্ধুকে 'কমরেড' বলে উল্লেখ করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় 'লাল সেলাম'-এর মতো শব্দ ব্যবহার করেছেন। এনআইএ-র অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে বিট্টু সোনওয়াল লেনিনের একটি ছবি রোস্ট করে সঙ্গে লিখেছিলেন, 'পুঁজিবাদীরা আমাদের যে দড়িটি বিক্রি করবে তা দিয়েই আমরা তাদের ফাঁসি দেব'।

গত ডিসেম্বরে অসমে নাগরিকত্ব সংশোধন আইন বা সিএএ-এর বিরুদ্ধে আগুণ জ্বলে উঠেছিল। সেই সময়ই গ্রেফতার করা হয়েছিল অখিল গগৈ-কে। কিন্তু, তিনি কারাগারে থাকলেও বাইরে সেই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী বিট্টু সোনওয়াল, মানস কনওয়ার এবং ধাইজ্যা কনওয়ার। চলতি বছরের গোড়ার দিকে সোনওয়াল-সহ তিনজনকেই ইউএপিএ আইনে গ্রেফতার করেছিল এনআইএ। ভারতীয় দণ্ডবিধি ও ইউএপিএর একাধিক ধারা অনুসারে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

অখিল গগৈ-এর দল কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতি বা কেএমএসএস-এর অভিযোগ এনআইএ যে ৪০ পৃষ্ঠার চার্জশিট পেশ করেছে তাতে তাদের নেতাদের বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ আনা হয়েছে তার কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ দেওয়া হয়নি। কেএমএসএস-এর সভাপতি ভাসকো সাইকিয়া বলেছেন, এনআইএ কেএমএসএস নেতাদের মাওবাদী হিসাবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে। 'অ্য়ান ইন্ট্রোডাকশন টু সোশ্যালিজম' (সমাজতন্ত্রের পরিচয়) এবং 'কমিউনিস্ট ইস্তেহার' এর মতো বই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। এই বইগুলি বাজারেই কিনতে পাওয়া যায়। এইসব বই পড়া মাওবাদী কার্যকলাপের প্রমাণ বলাটা হাস্যকর।