রাফাল মামলা নিয়ে সরকারকে একহাত নিচ্ছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যশোবন্ত সিংহ। এবার তিনি মোদী সরকারকে মিথ্যাচারের দায় অভিযুক্ত করতে চান।

 

২০১৮-র ডিসেম্বরে সুপ্রিম কোর্টের রায় বিজেপি বাহিনীর পক্ষে ছিল। কিন্তু যশোবন্ত সিংহ-সহ আরও অনেকেই এই রাফাল মামলা পুনর্বিবেচনা করার আবেদন করেন।  বুধবার সেই পুনর্বিবেচনার উপর ভিত্তি করে এল প্রথম দফার রায়। সেই রায়ে সন্তুষ্ট হয়ে যশোবন্ত সিংহ এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের কাছে বলেন, "মোদীর সরকার মিথ্যুকের সরকার। কিন্তু এবার সেই মিথ্যে ধরা পড়েছে। শীর্ষ আদালতের রায়কে স্বাগত।"

 

প্রথম দফার রায়ের পরে যে তাঁরা থেমে থাকবেন না, সে কথা জানিয়েছেন যশোবন্ত সিংহ। কোর্টকে বিভ্রান্ত করার জন্যও মিথ্যাচারের মামলা চলবে বলে জানিয়েছেন তিনি।  এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, "মোদী সরকার ভুল তথ্য দিয়ে আদালতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে। সংবাদপত্রেও প্রকাশিত হয়েছে সেই তথ্যে অনেক অসংগতি রয়েছে। "

 

এরই জন্য গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে মিথ্য়াচারের মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। যশোবন্ত সিংহের কথায়, "সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের মামলা পৃথক ভাবে জুরু করেছি। আদালতকে ভুয়ো তথ্য় দিয়ে ভুল পথে পরিচালনা করার জন্যও বিচার প্রয়োজন।"

 

ভারতীয় দণ্ডবিধি অনুযায়ী ১৯৩, ১৯৫, ১৯৬, ১৯৯ ধারায় তিন ক্ষেত্রে মিথ্যাচারের অভিযোগ আনা যায়- ১) শুনানির যে কোনও পর্যায়ে ভুয়ো প্রমাণ সাজালে। ২) শুনানির সময়ে যে কোনও পর্যায়ের কেউ উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে  মিথ্যে প্রমাণ দিলে। ৩) অন্য কোনও মামলাতে মিথ্যে প্রমাণ দিলে।  প্রথন দুই ক্ষেত্রে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সবোর্চ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড হতে পারে জরিমানা সহিত। তৃতীয় ক্ষেত্রে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সবোর্চ্চ ৩ বছর কারাদণ্ড এবং জরিমানা হতে পারে।

 

প্রসঙ্গত, রাফাল মামলা পুনর্বিবেচনা করার জন্য় যশোবন্ত যে নতি দেখিয়েছিলেন, তাকে ভুয়ো বলে দাবি করেছিল বিজেপি সরকার।  কিন্তু থেমে থাকেননি যশোবন্ত। পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়েও তিনি আত্মবিশ্বাসী বলে সংবাদমাধ্যমের কাছে জানান।

 

যশোবন্ত সিংহ পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বলেন, "যে নথিপত্র প্রকাশ্য়ে এসেছে, তার থেকে এটা স্পষ্ট যে রাফাল চুক্তির বিভিন্ন দিক তদন্ত করে দেখা দরকার। সেই তদন্তের পক্ষে সওয়াল চলবে।"