১৫ নভেম্বর চিন এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আরও ১৪টি দেশ রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ বা আরসিইপি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। দীর্ঘমেয়াদী এই চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার মুখে, ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আচমকাই আরসিইপি-র অংশ না হওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন। এর ফলে বিশ্বের বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য বিভাগ থেকে সরে গিয়েছে ভারত। হাকি দেশগুলি চুক্তি সাক্ষর এই অঞ্চলে একটি অর্থনৈতিক বিভাজন ঘটতে চলেছে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।

কেন সরে এসেছে ভারত

গত বছর নভেম্বরে চিন-সমর্থিত এই বাণিজ্য চুক্তি থেকে সরে আসার কারণ হিসাবে মোদী প্রশান জানিয়েছিল এই চুক্তির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভারতের উদ্বেগ রয়ে গিয়েছে। প্রথমত, শুল্কের পার্থক্যের কারণে আরসিইপি বাণিজ্য চুক্তি পণ্যের উৎস সংক্রান্ত বিধির পক্ষে হুমকির। বাণিজ্য ঘাটতি এবং পরিষেবা চালুর বিষয়ে ন্যায্য চুক্তির জন্য অনুরোধ করেছিল ভারত। আরসিইপি থেকে ভারতের সরে আসার আরও একটি বড় কারণ হ'ল এই চুক্তির ফলে আমদানি শুল্ক ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কমে যেত। এর ফলে, আমদানির বন্যার ফলে বিপুল বাণিজ্য ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই দুই প্রধান কারণ ছাড়াও, ভারত 'মোস্ট ফেভারড নেশন'-এর দায়বদ্ধতা না থাকার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। এর জন্য, এই চুক্তি সাক্ষর করলে ভারত, তার বন্ধুদেশগুলির সমান সুযোগ সুবিধা দিতে বাধ্য হত আরসিইপি-র সদস্য দেশগুলিকে। এছাড়াও, শুল্ক হ্রাসের শুরুর বছরটি ২০১৪ সাল হওয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল ভারত।

 

এর কী প্রভাব পড়বে ভারতের উপর

আরসিইপি থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় ফলে ভারত ব্যাপক বিনিয়োগ হারাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। এছাড়াও তাঁদের মতে ভারত এই চুক্তি স্বাক্ষর করলে দরিদ্র অংশের গ্রাহকদের বিভিন্ন পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রেই বর্তমানের থেকে বেশি অর্থ দিতে হত। এছাড়া আরসিইপি চুক্তির পর 'আসিয়ান' দেশগুলির সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারতের খোলাখুলি নীতি 'অ্যাক্ট ইস্ট নীতি'। চিন, জাপান, অস্ট্রেলিয়ার মতো অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশগুলির সঙ্গে আসিয়ান দেশগুলির মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হওয়ার পর, তা আরইসিপির পর দারুণভাবে মার খেতে পারে।

কারা সাক্ষর করল আরসিইপি চুক্তিতে

দীর্ঘ ৮ বছর আলোচনার আরসিইপি চুক্তি সাক্ষরিত হল। এই চুক্তিতে চিন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, এবং নিউজিল্যান্ড ছাড়াও সাক্ষর করেছে ১০ আসিয়ান সদস্য দেশ। এই দেশগুলি হল - ব্রুনেই, ভিয়েতনাম, লাওস, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, মায়ানমার, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া এবং ফিলিপাইন্স।