কী বিচিত্র এই রোগ। তাঁর শরীরে করোনাভাইরাসের চিহ্নমাত্র নেই। কিন্তু সেই ব্য়ক্তির থেকেই কিনা এই সংক্রমণ ছড়িয়ে গেল অন্য়ের শরীরে! চিনে সম্প্রতি  নাকি এমন ঘটনাই ঘটেছে। চিনের যে উহান প্রদেশ থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র, সেই বছর কুড়ির এক মহিলা সেকান থেকে বেশ কয়েকশো কিলোমিটার দূরে তাঁর আত্মীয়ের বাড়ি গিয়েছিলেন। সেই বাড়ির পাঁচজন আক্রান্ত হয়েছেন করোনাভাইরাসে। অথচ, ওই মহিলার শরীরে কিন্তু করোনার কোনও লক্ষণই নেই।

সম্প্রতি আমেরিকান মেডিকেল জার্নালে ওই মহিলা ও তাঁর আত্মীয়দের কথা প্রকাশিত হওয়ার পরই রীতিমতো চাঞ্চল্য় দেখা গিয়েছে বিজ্ঞানী ও চিকিৎসক মহলে। অনেকেরই প্রশ্ন, কীভাবে এমনটা সম্ভব! তাহলে কি শরীরে করোনাভাইরাসের উপসর্গ না-থাকা সত্ত্বেও কেউ আক্রান্ত হতে পারেন এই রোগে?

এই ঘটনা সামনে আসার পরই চিকিৎসকরা নতুন করে ভাবতে শুরু  করে দিয়েছেন। কীভাবে ছড়াচ্ছে এই রোগ, রোগের উপসর্গ ছাড়াও কেউ এতে আক্রান্ত হতে পারেন কিনা, তাই নিয়ে চলছে ভাবনাচিন্তা।

জানা গিয়েছে, গত ১০ জানুয়ারি, যখন করোনার আতঙ্ক শুরু হয়ে গিয়েছে সেখানে, তখন ওই মহিলা উহান থেকে তাঁর আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন ওই মহিলা। ওই মহিলার শরীরে করোনাভাইরাসে কোনও উপসর্গ ছিল না। অথচ, আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পর সেখানে কমপক্ষে  পাঁচজন অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই রোগে। সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয় হল, ওই ঘটনার পর ওই মহিলাকে পরীক্ষা করা হয়। কিছুদিন আলাদা করে রাখা হয়। অবশ্য় দ্বিতীয়বার পরীক্ষার পর তাঁর শরীরে করোনাভাইরাসে  আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ দেখা যায়।

আর এখানেই আশঙ্কা চিকিৎসকদের। তাঁদের মতে, করোনা নিয়ে তাঁদের চিন্তা অসুস্থদের নিয়ে যত-না, তার চেয়ে সুস্থদের নিয়ে বেশি। কারণ, এই রোগে দ্রুত সংক্রমণ ঘটে। তাই আক্রান্তদের আলাদা করে রাখার ব্য়বস্থা করা হয়। কিন্তু প্রশ্ন হল, আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও যদি কেউ তা টের না-পায়, শরীরে যদি কোনও উপসর্গ দেখা না-যায়, তাহলে তো আর তাঁকে আলাদা করে রাখার প্রশ্ন ওঠে না। অথচ তাঁর থেকেই ছড়িয়ে পড়ে সংক্রমণ।

প্রসঙ্গত, এখনও পর্যন্ত চিনে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্য়া ৭৫হাজার ছাড়িয়েছে। মৃতের সংখ্য়া  ২০০০-এর আশেপাশে। চিন থেকে এই রোগ ছড়িয়েছে বিশ্বের অন্তত ২৫ টি দেশে।