১৯৮৬ সালে আততায়ীর হাতে খুন হয়েছিলেন সুইডেনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ওলফ পালমে। তদন্তের পর তদন্ত হয়েছে। কমিশন বসেছে। কিন্তু ৩৪ বছর ধরে সেই খুনের রহস্যের কিনারা হচ্ছিল না। অবশেষে সুইডেনের বিচার বিভাগ ওই খুনে মৃত স্টিগ ইংস্ট্রমকে দোষী সাব্যস্ত করল।  
১৯৮৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সিনেমা দেখে স্ত্রীকে নিয়ে ফেরার পথে স্টকহোমের রাস্তায় আততায়ীর হাতে খুন হন ওলফ পালমে। তাঁকে পেছন থেকে গুলি করে ভিড়ের মধ্যে মিলিয়ে যায় আততায়ী।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী থাকলেও পলাতক আততায়ীর খোঁজ পায় নি পুলিশ ও তদন্তকারীরা। তবে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক থমাস পিটারসন দীর্ঘদিন ধরে ওই ঘটনার অনুসন্ধান করে স্টিগ ইংস্ট্রমকেই চিহ্নিত করেন। কিন্তু ২০০২ সালে সেই আততায়ীর মৃত্যু হয়। তবে ১৮ বছর ধরে পুলিশ তাঁকে নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে যায়।
পুরো সুইডেনে ওই হত্যাকাণ্ড  ঝড় তুললেও আততায়ীকে খুঁজে বের করতে না পারায় ক্রমশই সেটি রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়। সুইডেনজুড়ে নানা ষড়যন্ত্রতত্ত্বের জন্ম হয়। সুইডেনের বিচার বিভাগ ও পুলিশকে নানা সমালোচনার মুখোমুখ হতে হয়। খুনের কিনারায় ছ’বার তদন্ত ও তিনবার কমিশন বসেছে। সন্দেহভাজন হিসেবে ইংস্ট্রমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও নিজেকে সে এই মামলার সাক্ষী হিসেবে প্রমাণ করে ধোঁকা দিয়েছে। 
তবে রহস্যের কিনারা ২০১৮ সালে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক থমাস পিটারসন করে রেখেছিলেন। তিনি তাঁর অনুসন্ধানের সময় খুনির সঙ্গে একজন অস্ত্র সংগ্রাহক ও প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তারা সম্পর্ক খুঁজে পান, যিনি পালমে ও তাঁর সমাজবাদী আদর্শকে মোটেই সহ্য করতেন না।
সাংবাদিক পিটারসন অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানতে পারেন, যে থিয়েটারের কাছে প্রধানমন্ত্রী পালমে খুন হন, ঠিক তার কাছেই কাজ করতেন ইংস্ট্রম। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বলেছিলেন, ঘটনাস্থলে তিনি ছিলেন। এ ছাড়া তিনি নিজে শুটিং ক্লাবে সক্রিয় ছিলেন। 
পিটারসন বলেন, ২০১৭ সালে পুলিশ একটি অস্ত্র খুঁজে পায়, যা সম্ভবত প্রধানমন্ত্রীকে গুলি করার কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল। তিনি এও বলেছিলেন, চাকরিতে ইংস্ট্রমের উন্নতি হয়নি। প্রত্যাশিত পদোন্নতি পাননি। পরিবার ছিল না। জীবনে কোনো আশা ছিল না। জীবনের ওই সময়টাতে হতাশ ছিলেন তিনি। তবে নিজেকে চেনানোর চেষ্টা করছিলেন। নিজের জন্য বড় কিছু করার কথা ভাবছিলেন।
রহস্য উদ্‌ঘাটনে ১৩ বছর ধরে অনুসন্ধান চালানোর পর ইংস্ট্রমকে খুনি বলে ঠিক করতে পেরেছিলেন পিটারসন। অনুসন্ধানের বিস্তারিত ২০১৭ সালে পুলিশের হাতে তুলে দেন সাংবাদিক পিটারসন। তাঁর তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ আবার ইংস্ট্রমকে কেন্দ্র করে অনুসন্ধান শুরু করে।