করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিবৃতি বারবার ভুল হওয়ায় বিজ্ঞানীদের অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কয়েকদিন আগেই ডব্লিউএইচও জানায়, উপসর্গবিহীন আক্রান্তদের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা বিরল। এরপরই গবেষকদের তীব্র আপত্তির মুখে পরে সংস্থা। একদিন পর নিজেদের বক্তব্যে ভুল হয়েছে বলে জানায় সংস্থা। এই প্রথম নয়, গত কয়েক মাসে বেশ কয়েকবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অবস্থানকে নড়বড়ে মনে হয়েছে বিজ্ঞানীদের। 
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গত সপ্তাহে সবার মাস্ক পরার কথা জানায়। অথচ এতদিন ধরে তাদের বক্তব্য ছিল, মাস্কে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ যে প্রতিরোধ করা যায়-এর সপক্ষে তেমন প্রমাণ নেই। তবে ডব্লিউএইচও-র কথায় গা না করে বিশ্বের বেশিরভাগ বিজ্ঞানী ও সরকার প্রথম থেকেই সংক্রমণ এড়াতে সবাইকে মাস্ক পরতে পরামর্শ দিয়ে এসেছে। দেরিতে হলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তা মেনে নিয়েছে।
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বায়ুকণার মাধ্যমে করোনা ছড়ায় না- ডব্লিউএইচও-র এই বক্তব্যের সঙ্গেও বহু বিজ্ঞানীর বিরোধ দেখা দেয়। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বায়ুকণা ও অতি ক্ষুদ্র তরলকণা প্রসঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বক্তব্যের সঙ্গে মতবিরোধ বিশ্বের অনেক বিজ্ঞানীর। 
বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষে দ্রুত বিভিন্ন গবেষণা সংগ্রহ ও সেগুলো পর্যালোচনা করে ভাইরাসটির চরিত্র বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচন করা সম্ভব হলেও এ কাজে এখন পর্যন্ত তারা আস্থা অর্জন করতে পারেন নি। সাধারণত তাঁরা সতর্কতার সঙ্গে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পর্যালোচনা করে থাকে। কিন্তু এখন গবেষণার গতি বদলে গিয়েছে। 
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তা ড. মারিয়া ভ্যান কেরখোভ বলেন, এখনো দেখা যাচ্ছে, উপসর্গবিহীন আক্রান্তদের থেকে দ্বিতীয় কারো দেহে সংক্রমণের ঘটনা খুবই বিরল। এই মন্তব্যে বিজ্ঞানীদের কপালে ভাঁজ পড়ে। তাঁরা ডব্লিউএইচও-র কর্মকর্তাকে দ্বিমত জানান।
গবেষকদের আপত্তির মুখে ‘উপসর্গবিহীন আক্রান্ত’ প্রসঙ্গে ভ্যান কেরখোভ বলেন, তিনি একটি জিজ্ঞাসার জবাবে ওই কথা বলেছিলেন। ডব্লিউএইচওর নীতি বা সেই সংক্রান্ত কিছু বলেন নি। তিনি জানান, উপসর্গবিহীন আক্রান্তদের নিয়ে তার ওই মন্তব্যের ভিত্তি হচ্ছে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের অপ্রকাশিত গবেষণা। কিন্তু অপ্রকাশিত গবেষণার ওপর ভিত্তি করে তথ্য ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ছাড়া এ ধরনের মন্তব্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘বিশ্বাসযোগ্যতা’ নষ্ট করছে বলে মন্তব্য করেছেন ডব্লিউএইচওর সহযোগী সংগঠন ন্যাশনাল অ্যান্ড গ্লোবাল হেলথ ল। অনেকে বলছেন, মাস্ক নিয়ে ডব্লিউএইচও-র বক্তব্য তাঁদের ব্যর্থতা।