মেক্সিকো জুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। গত মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত সোয়া দশটায় সেখানকার আকাশে হঠাৎ করেই আবির্ভূত হয়েছিল একটা আগুনের গোলা। প্রত্যক্ষদর্শীরা এভাবেই ঘটনাটিকে বর্ণনা করেছেন। একই সময়ে সেইদেশের ইউকাটান উপদ্বীপে স্থলভূমিতে প্রবেশ করেছিল হারিকেন ঝড় 'ডেল্টা'। এখানেই শেষ নয়, একইসঙ্গে গোটা মেক্সিকো জুড়েই অনুভূত হয়েছিল বেশ কয়েকটি ছোট ছোট ভূমিকম্প। এরপরই ওই রহস্যময় আগুনের গোলা নিয়ে গোটা দেশে হইচই পড়ে গিয়েছে।

বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ওই বিস্ময়কর রহস্যময় ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দি করেন। ডোরবেল ক্যামেরা, সিসিটিভি ক্যামেরা, স্বয়ংক্রিয় ওয়েবক্যামের - মতো নিরাপত্তা ক্যামেরাগুলির ফুটেজেও এই ঘটনাটি ধরা পড়েছে। কিন্তু মেক্সিকোতে গত মঙ্গলবার রাতে ঠিক কী ঘটেছিল?

বিশদ তদন্তের পর মেক্সিকান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আসলে তিনটি প্রাকৃতিক ঘটনা একসঙ্গে ঘটেছে। হারিকেন ডেল্টা ইউকাটনেও ভূমি স্পর্ষ করেছিল। তাই সেইসময় ওই অঞ্চলে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১৮৮ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইছিল। এই হারিকেন ঝড়টি ছিল ক্যাটেগরি ২-এর। প্লেয়া দেল কারম্যান এবং ক্যানকেন-এর জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলি সেই ঝড়ের দাপটে ক্ষতির মুখে পড়েছে।

অন্যদিকে, মেক্সিকোর দক্ষিণ দিকের রাজ্য ওক্সাকা-য় ওই সময়ই পরপর ১৪ টি ছোট মাপের ভূমিকম্প হয়। রিখটার স্কেলে সেগুলির কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.০ থেকে ৪.৩ এর মধ্যে। ভূমিকম্পগুলির ফলে কোনও বড় ক্ষতি না হলেও ভূমিকম্পের ফলে জমমানসে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল।

যেটা নিয়ে ধাঁধা ছিল তা হল আকাশে ওই আগুনের গোলা। অনুসন্ধানের ফলে জানা গিয়েছে সেটি একটি অস্বাভাবিক রকমের উজ্জ্বল উল্কা। এই ধরণের উল্কাকে 'ফায়ারবল' বলা হয়। এগুলি সাধারণত ধূমকেতু বা গ্রহাণুদের ছোট ছোট টুকরো দিয়ে গঠিত। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে বাতাসের সঙ্গে ঘর্ষণে এগুলি জ্বলে উঠে এবং আকাশে ওইরকম আগুনের গোলার হিসেবে দেখা দেয়। মেক্সিকোর আকাশে যে ফায়ারবলটি দেখা গিয়েছিল, সেটি মেক্সিকোর তামাউলিপাস রাজ্যের রাজধানী শহর সিউদাদ ভিক্টোরিয়া-র পাশে একস্থানে উল্কা হিসেবে রতিত হয়েছে। ওই উল্কাপাতের কারণে সেখানকার গাছপালায় আগুন-ও ধরে গিয়েছিল।