২০২০ সালের শুরু থেকেই বিশ্বের উপর পড়েছিল মহামারির কুনজর। বছরের বেশিরভাগ সময় থাকতে হয়েছে বাড়ির ভিতরে। বছরের শেষে ভ্য়াকসিন আসায় অনেকেই স্বস্তি বোধ করছিলেন। কিন্তু, করোনা এখন আবার বলছে, 'যেতে পারি, কিন্তু কেন যাব?' চলতি সপ্তাহের শুরুতেই ব্রিটেনে করোনার একটি আরও সংক্রামক নতুন স্ট্রেন ধরা পড়েছিল। তারপর বুধবার দক্ষিণ আফ্রিকায় ধরা পড়ে আরও একটি রূপান্তর। যা ব্রিটেনের থেকেও বেশি সংক্রামক বলে জানা গিয়েছিল। বৃহস্পতিবার আফ্রিকার শীর্ষস্থানীয় জনস্বাস্থ্য আধিকারিক জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস-এর আরও একটি নতুন রূপ-এর সন্ধান মিলেছে নাইজেরিয়ায়।

তবে এই নয়া রূপান্তর ব্রিটেন ও দক্ষিণ আফ্রিকার রূপভেদগুলির মতোই সংক্রামক কি না, তা এখনও জানা যায়নি। তার জন্য নাইজেরিয়ার নয়া স্ট্রেন নিয়ে আরও তদন্তের প্রয়োজন, বলে জানিয়েছেন আফ্রিকা রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের প্রধান জন নেকেনগাসং। তবে এটি যুক্তরাজ্য এবং দক্ষিণ আফ্রিকার করোনার রূপান্তর থেকে আলাদা, সেই বিষয়ে কোনও সংশয় নেই। বস্তুত, তিনি জানিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার স্ট্রেনটি যেমন ব্রিটেনের স্ট্রেনেরই পরবর্তী রূপান্তর, নাইজেরিয়ার স্ট্রেনটি তা নয়। একেবারেই আলাদা। নাইজেরিয়া সিডিসি এবং আফ্রিকান সেন্টার অব এক্সেলেন্স ফর জিনোমিক্স অব অনফেকশাস ডিজিজ এই নয়া স্ট্রেন-এর আরও নমুনা বিশ্লেষণ করবে।  

জানা গিয়েছে, গত ৩ আগস্ট এবং ৯ অক্টোবর তারিখে নাইজেরিয়ার ওসুন রাজ্য থেকে সংগ্রহ করা দুই রোগীর নমুনায় এই নয়া রূপটি পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু গত কয়েকদিনে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে যে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে, তারপর আর ঝুঁকি নিতে চায়নি আফ্রিকা সিডিসি। এই নয়া রূপান্তরটি নিয়ে এদিনই জরুরি বৈঠক করেছে তারা। তবে প্রাথমিক গবেষণায় ভাইরাস বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন নাইজেরিয়ার রূপান্তরটি ব্রিটেন বা দক্ষিণ আফ্রিকার রূপান্তরগুলির মতো অতি সংক্রামক নয়। কারণ নাইজেরিয়ার সংক্রমণের অতি দ্রুত বৃদ্ধি এখনও দেখা যায়নি।

নাইজেরিয়ায় না হলেও আফ্রিকা মহাদেশের বেশ কিছু অংশে আবার সংক্রমণের হার মাত্রাতিরিক্তভাবে বাড়তে শুরু করেছে। তারমধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা দক্ষিণ আফ্রিকায়। নতুন রূপের করোনাই সেখানে বেসি ছড়াচ্ছে। সংক্রমণের মোট পরিমাণ দ্রুত ১-০ লক্ষের দিকে দৌড়চ্ছে। জানা গিয়েছে নয়া রূপান্তরটি আরও দ্রুত সংক্রমিত হয় এবং রোগীর দেহে ভাইরাল লোড-ও বেশি হয়। তবে এতে আক্রান্তের অবস্থা আরও গুরুতর হয় কিনা, তা এখনও পরিষ্কার নয়। বুধবার গভীর রাতে দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্যমন্ত্রী সেই দেশে করোনার নতুন সংক্রমণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।