অঙ্ক শব্দটা শুনলে ভয় করে অনেকেরই। তাই অঙ্কের থেকে সাত হাত দূরে থাকতেই বেশি পছন্দ করেন তাঁরা। আবার কিছুজনের কাছে অঙ্কই একমাত্র ধ্যান জ্ঞান। অঙ্ক ছাড়া যেন কিছুই তাঁরা ভাবতে পারেন না। আর সেই তালিকাতেই পড়েন আমেরিকার প্রবাসী বাঙালি সমিত দাশগুপ্ত। ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্কের স্যার তিনি। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করার পর এখন তিনি অধ্যাপক। 
 
ছোটো থেকেই তাঁর অঙ্কের প্রতি মারাত্মক ঝোঁক ছিল। সময় পেলেই অঙ্ক নিয়ে বসে পড়তেন। তাঁর বাবা-মাও সেই বিষয়টিকে খুবই গুরুত্ব দিতেন। এরপর মাত্র ১৬ বছর বয়সে 'ওয়েস্টিংহাউস সায়েন্স ট্যালেন্ট সার্চ'-এর চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছিলেন সমিত। আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পড়ুয়া এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। তবে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছিলেন মাত্র ৪১ জন। আর সেই তালিকায় ছিলেন সমিতও।

অঙ্কশাস্ত্রের নানা শাখা-প্রশাখার মধ্যে সংখ্যাতত্ত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কোনও সংখ্যা নিয়ে পণ্ডিতরা একাধিক সমস্যা ফাঁদেন। আর তারপর সেগুলি সমাধান করেন। আর এই সংখ্যাতত্ত্বই ছোটো থেকে টানত সমিতকে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখার আগে 'মাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি'-তে গিয়ে গণিত নিয়ে গবেষণা শেখার সুযোগ পেয়েছিলেন। সেখানেই বিভিন্ন সংখ্যার মধ্যে সম্পর্কের খোঁজ শুরু করেছিলেন। আর সংখ্যাতত্ত্ব নিয়ে পিএইচডি করার পরও তা নিয়ে চর্চা করে চলেছেন তিনি। 

এদিকে সংখ্যাতত্ত্বের জটিল ধাঁধার খোঁজ করতে করতে জার্মানির এক তুখড় অঙ্কবিদ ডেভিড হিলবার্টের ২৩টি সমস্যার হদিশ পান সমিত। ১০০ বছর ধরে সেই সব সমস্যার সমাধান করতে পারেননি অনেকেই। তার মধ্যে কয়েকটির সমাধান সম্ভব হলেও বাকিগুলি সমাধানযোগ্য নয় বলেই ধরে নেওয়া হয়েছে। বিশ্বজুড়ে চলছে 'হিলবার্টস প্রবলেমস' নামেই পরিচিত এগুলি। সেই সমস্যাগুলির উত্তরের খোঁজ করতে এখনও চেষ্টা করছেন অনেকেই।  

গবেষণার জন্য হিলবার্ট সাহেবের ১২তম সমস্যাটি বেছে নিয়েছিলেন সমিত। ২০ বছর ধরে এই বিষয় নিয়ে চর্চা করছেন তিনি। তবে এক্ষেত্রে তাঁকে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছেন বন্ধু ও অন্য গণিত বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়ে মহেশ কাকড়ে নামে এক মারাঠি গণিতবিদ তাঁকে অনেক সাহায্য করেছেন বলে জানিয়েছেন সমিত। যা তাবড় গণিতবিদরা সমাধান করতে পারেননি তা সমাধান করে ফেলেছেন সমিত-মহেশ জুটি। সম্প্রতি আমেরিকার এক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে তাঁদের গবেষণাপত্র। 'কোয়ান্টা' নামে একটি পত্রিকায় তাঁদের কৃতিত্বের খবর প্রকাশিত হয়। যা সাড়া ফেলে দিয়েছে গোটা বিশ্বে। তবে যাঁরা এতদিন হিলবার্ট সাহেবের সমস্যাগুলি সমাধানযোগ্য নয় বলে হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন তাঁদের মনে নতুন করে আশার আলো জুগিয়েছেন এই জুটি। তবে একটা সমস্যা সমাধানের পর থেমে থাকবেন না তাঁরা। বরং আরও কঠিন ধাঁধা সমাধানের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিচ্ছেন সমিত-মহেশ।