অবশেষে ঘটে গেল সেই ঘটনা। ইউরোপিয়ং ইউনিয়নে নিজেদের ৪৭ বছরের সদস্যপদ ছেড়ে দিল ব্রিটেন। শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ১১টায় ইউরোপিয় ইউনিয়ন ছেড়ে বেরিয়ে গেল বরিস জনসনের দেশ।

গণভোটের রায়ের সাড়ে তিন বছর পর নানা নাটকীয়তার পর ব্রিটেনে কার্যকর হল এই ব্রেক্সিট। যার ফলে দেশের ১ কোটি ৭৪ লক্ষ মানুষের গণভোটের রায় বাস্তবতা পেল। তবে ঐতিহাসিক এই মুহুর্তের সময় ব্রিটেন জুড়ে উদয়াপনের পাশাপাশি ব্রেক্সিট বিরোধী প্রতিবাদও চোখে পড়েছে।

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ব্রেক্সিট কার্যকর হওয়ার ঘণ্টা খানেক আগে সামাজিক মাধ্যমে বিবৃতি দিতে গিয়ে বলেন, "অনেকের কাছে এটি আশার এক বিস্ময়কর মুহুর্ত। এমন এক মুহুর্ত, যা কখনই আসবে না বলে ভেবেছিলেন তারা।" তবে এই পরিস্থিতিতে দেশকে ঐক্যবদ্ধ রেখে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। 

 

 

ব্রেক্সিট ইস্যুতে প্রস্তাব পাশের পরও তা নিয়ে সাড়ে তিন বছরেরও বেশি সময়ে ধরে চলেছে বিতর্ক। এই ইস্যুতে দুভাগে বিভক্ত হয়ে যায় ব্রিটেনের সমাজ।

ইউরোপিয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যেতেই ব্রেক্সিট সমর্থকরা রাতেই ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সামনে ভিড় জমিয়ে উৎসবে মাতেন। লন্ডনের রাস্তায় পোড়ানো হয় ইউরোপিয় ইউনিয়নের পতাকা। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে ডাইনিং স্ট্রিটের অফিসে খানাপিনায় মাতেন।  

ব্রেক্সিট কার্যকর হলেও এখনি অবশ্য ইউরোপিয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্কে ছেদ পড়ছে না ব্রিটেনের। ইইউ-এর সঙ্গে একটি বাণিজ্যিক চুক্তি নিয়ে আলোচান চলবে চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত। এই এগারো মাস সময় ট্রানজিশনাল পিরিয়ড হিসেবে বিবেচিত হবে। 

কিছু সংখ্যক ব্রিটেনবাসী ব্রেক্সিটে খুশি হলেও ২০১৬ সালের গণভোটে স্কটল্যান্ড ভোট দিয়েছিল ব্রেক্সিটের বিপক্ষে। সেখানকার মানুষরপা রাতে মোমবাতি মিছিল বার করেন। ইউরোপিয় ইউনিয়নে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়। আয়ারল্যান্ডের বর্ডার কমিউনিটি এগেন্সট ব্রেক্সিট নামে একটি সংগঠনও ব্রেক্সিটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমেছ।