কী ভাবে তৈরি হয়েছিল বা ছড়িয়ে পড়েছিল করোনাভাইরাস? এই ভাইরাস কী তৈরি হয়েছিল উহানের পরীক্ষাগারে? এই সবই পরিষ্কার হতে যেতে পারে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে। কারণ দীর্ঘ টালবাহানার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি বিশেষজ্ঞ দলকে চিনে যাওয়ার ছাড়পত্র দিয়েছে বেজিং। কারণ প্রথম থেকেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মনে করছে ভাইরাসটির উৎস সন্ধান পেলে তবেই তা নিধন করা সম্ভব হবে। মে মাস থেকেই চিনে বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর ওপর জোর দিচ্ছিল সংস্থা।  অবশেষে মিলল ছাড়পত্র। 

বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ন বুধবার সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার পরই চিন সরকার বিশেষজ্ঞ দলকে বেজিং যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। আগেই তিনি জানিয়েছিলেন তিনটি দেশ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞরা তথ্য খতিয়ে দেখেছেন। পাশাপাশি সর্বশেষ পরিস্থিতি বিচার করে প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। 

উহানের পৌর স্বাস্থ্য কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী করোন ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর হুবেই প্রদেশের এই শহরে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। তারপর থেকেই এই ভয়ঙ্কর ছোয়াছে রোগ গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা এক কোটি ১৮ লক্ষেরও বেশি । বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গোটা বিশ্ব জুড়েই অতিমারির আকার নিয়েছে করোনাভাইরাস। 

মঙ্গলবারই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে জানান হয়েছিল, একটি বিশেষজ্ঞদল সপ্তাহের শেষের দিকে চিন সফর করবে। মহামারির উৎস সনাক্ত করার জন্য চিনা সহযোগী ও বিজ্ঞানীদের সঙ্গে আলোচনা করবে। 

অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়ার বিষয় নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন চিন। ঝাও লিজিয়ন বলেন মহামারির সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ উন্নয়নশীর ক্ষেত্র মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। পাশাপাশি মরামারি প্রতিরোধের ব্যবস্থাকেও দুর্বল করে দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যদিও মহামারির প্রথম থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে চিনের হাতের পুতুল বলে মন্তব্য করেছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় সবথেকে বেশি অনুদান দিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রতি বছর ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ সাহায্য দিত আমেরিকা।