লাদাখে বেড়ে চলা সীমান্ত সমস্যা নিয়ে ক্রমেই উত্তেজনা বাড়ছে ভারত ও চিনের মধ্যে। পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে তাতে এই বিরোধকে কেন্দ্র করে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা করছেন অনেক কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞই। এই অবস্থায় বিশ্ব মঞ্চে ভারতের বিরুদ্ধে প্যাঁট কষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে চিন। 

পাকিস্তানে কয়েকদিন আগেই স্টক এক্সচেঞ্জে ভয়াবহ হামলা হয়েছে। ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এই হামলার নেপথ্যে বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মির হাত থাকার কথাও জানা গিয়েছে। এরপরই পাকিস্তান পুরোনো সুরে দাবি করতে থাকে, বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মির সঙ্গে ভারতের যোগ রয়েছে, ফলে হামলার নেপথ্যে ভারত রয়েছে। আর সেই মর্মে এই হামলা নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে পাকিস্তানের বক্তব্যকে ভারতের বিরুদ্ধে তুরুপের তাস করে নয়া খেলায় মেতে ওঠার গুটি সাজিয়েছিল বেজিং।

আরও পড়ুন: ভারতের উপর চাপ তৈরি করতে নয়া কৌশল, এবার পাকিস্তানের সীমান্তকে ব্যবহার করছে চিন

সব মরশুমেই চিনের পরমবন্ধু বলে বিবেচিত পাকিস্তান। আর ভারতের এই দুই প্রতিবেশী দেশই এবার চক্রান্ত করতে কোমর বেঁধে একজোট হয়েছে।  করাচি হামলার নেপথ্যে ভারত রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি। এই নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষগে একটি খসড়া প্রস্তাব পেশ করে চিন। যাতে বলা হয়,  নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা মনে করেন, সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপে যুক্ত, তাদের আয়োজক, অর্থ জোগানদার ও প্রচারকদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিত। এই ঘটনায় সদস্যরা পাক সরকারের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করবে যাতে হামলায় যুক্তদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন ও সংশ্লিষ্ট নিরপত্তা পরিষদের প্রস্তাব অনুযায়ী ব্যবস্থাগ্রহণ করবে।

আরও পড়ুন: গালওয়ান থেকে কিছুটা পিছু হঠল চিন, তবে সেনা সরাতে নারাজ লাল ফৌজ

রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের "নীরবতা প্রক্রিয়া"-র অংশ হিসাবে এই বিবৃতি পেশ করেছিল চিন। অর্থাৎ, কোনও দেশ যদি একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আপত্তি না তোলে, তাহলে, তা গৃহীত হিসেবে ধরে নিতে হবে। চিনের প্রধান  লক্ষ্যই ছিলপাকিস্তানের অভিযোগকে সমর্থন করে ভারতের বিরুদ্ধে আঙুল তোলা। কিন্তু আপত্তি তুলে সেই নিন্দাপ্রস্তাব পেশে বিলম্ব ঘটাল আমেরিকা ও জার্মানি। প্রথম আপত্তি জানায় জার্মানি।  জার্মানি স্পষ্ট করে দেয়, পাকিস্তানের দাবি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর পরে আপত্তি জমা পড়ে আমেরিকার।