লাদাখ সীমান্তে উত্তেজনার আবহতে গত সোমবারই টিক টক সহ ৫৯টি চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করে দিয়েছে ভারত সরকার। আর তারপর থেকে গুগল প্লে স্টোর হোক বা অ্যাপেল অ্যাপ স্টোর কোনও খানেই দেখা মিলছে না এই চিনা অ্যাপগুলি। চিনের দাদাগিরি রুখতে ভারতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাল আমেরিকা।

বিষয়টি নিয়ে বুধবার মুখ খোলেন মার্কিন বিদেশসচিব মাইক পম্পেও, একটি বিবৃতিতে তিনি বলেন, “চিনা কমিউনিস্ট পার্টির নজরদারি রুখতে এটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত  হিসাবে কাজ করতে পারে”। তিনি আরও যোগ করেন, “অ্যাপগুলিকে মুছে ফেলার এই সিদ্ধান্ত ভারতের সার্বভৌমত্বকে শক্তিশালী করে তুলবে এবং অখণ্ডতা এবং জাতীয় সুরক্ষাকে নিশ্চিত করবে”।

আরও পড়ুন: নয়া জাতীয় নিরাপত্তা আইন চালুর প্রতিবাদ, চিনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও বিদ্রোহে উত্তাল হংকং

এর আগে ফ্রান্সের তরফে জানানো হয়েছিল, লাদাখ ইস্যুতে ভারতের প্রতি 'বন্ধুত্বপূর্ণ সমর্থন' তাদের রয়েছে। এবার আমেরিকাও সেই বার্তাই দিল দিল্লিকে। এদিকে ভারতের মত আমেরিকাতেও চিনা অ্যাপগুলি নিষিদ্ধ করার একই দাবি উঠেছে।  মার্কিন কংগ্রেসের অনেক সদস্যই টিকটক নিষিদ্ধ করার কথা বলছেন। তাঁদের দাবি, টিক টকের মত  শর্ট ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ দেশের নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক। রিপাবলিকান সেনেটর জন করনিন বলেছেন, ‘(লাদাখে) রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর টিকটক সহ বেশ কয়েকটি চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করেছে ভারত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও একই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’ অপর এক রিপাবলিকান সেনেটর রিক ক্রফোর্ড বলেছেন, ‘টিকটক অবশ্যই নিষিদ্ধ করা উচিত। আগেই এটি নিষিদ্ধ করা উচিত ছিল।’

মার্কিন সরকারের আধিকারিকরা যাতে তাঁদের ফোনে টিকটক না রাখেন, সেই নির্দেশ দেওয়া সংক্রান্ত দু’টি বিল ইতিমধ্যে মার্কিন কংগ্রেসের বিবেচনাধীন। ভারতে চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ হওয়ার পর এবার সেই বিল পাশ করার দাবি জোরাল হচ্ছে। 

আরও পড়ুন: চিনের পর দাঁত-নখ বার করছে পাকিস্তানও, গিলগিট-বালতিস্তানে অতিরিক্ত ২০ হাজার সেনা মোতায়েন

এদিকে ৫৯টি চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করেই থেমে নেই ভারত সরকার, এবার দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে চিনের ওয়েবো অ্যাপ থেকে অ্যাকাউন্ট সরিয়ে নিলেন। আর এই পদক্ষেপ থেকে তিনি সাফ বুঝিয়ে দিলেন সর্বোতভাবে চিনকে এবার প্রত্যাখ্যানের দিকেই এগোচ্ছে ভারত।