গত বছর ডিসম্বের চিনে উহানে সবার প্রথম করোনা সংক্রমণের খবর পাওয়া গিয়েছিল। তারপর গত ৫ মাসে মহামারীর আকারে ছড়িয়ে এই মারণ ভাইরাস। বিশ্বে ৫৯ লক্ষের বেশি মানুষ  আক্রান্ত হয়েছেন কোভিড ১৯ রোগে। প্রাণ গিয়েছে সাড়ে তিন লক্ষেরও বেশি মানুষের। বিশ্বে করোনা সংক্রমণের জন্য চিনকে দায়ি করে প্রতিদিনই তোপ দাগছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আমেরিকা ছাড়াও বিশ্বের একাধিক দেশ করোনাভাইরাসের কারণে হওয়া ক্ষতির জন্য চিনকেই দায়ি করছে। এই পরিস্থিতিতে সোয়াইন ফ্লুর কারণ দেখিয়ে ভারত থেকে শুয়োর আমদানি বন্ধ করে দিল চিন সরকার।

আরও পড়ুন: লাদাখ নিয়ে কথাই হয়নি দুই রাষ্ট্রনেতার, মোদীর মনখারাপ নিয়ে ট্রাম্পের দাবি উড়িয়ে দিল ভারত

শুয়োরের মাংস খাওয়ায় সারা পৃথিবীর মধ্যে এক নম্বরে রয়েছে চিনারা। কেবল শুয়োর নয়, কুকুর থএকে শুরু কের, সাপ, বানর , পতঙ্গ সবকিছুই খায় চিনারা। অনেকেই দাবি করছেন, উহানের প্রাণি বাজার থেকেই ছড়িয়েছে করোনাভাইরাস। সেই চিন এবার আফ্রিকার সোয়াইন ফ্লু আতঙ্কে ভারত থেকে শুয়োরের মাংস আমদানির ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা চাপাল।

 

 

সম্প্রতি অসমের একাধিক গ্রামে শুয়োরের মধ্যে আফ্রিকান সোয়াইন ফ্লু ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। এই রোগের প্রকোপে  রাজ্যে ১৪ হাজার  শুয়োরের মৃত্যু হয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে। এই অবস্থায় ভারত থেকে আর শুয়োর আমদানি করা যাবে না বলে ঘোষণা করেছে চিনের শুল্ক ও কৃষিমন্ত্রী। চিনের একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে,  গত কয়েক দিনে অসম থেকে যে শুয়োরগুলি চিনে পাঠানো হয়েছে, তার মধ্যে অনেকগুলির শরীরে মারণ অসুখ ধরা পড়েছে। তার পরেই নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চিনের শুল্ক দফতর এবং কৃষি ও গ্রামীণ মন্ত্রক।

আরও পড়ুন: চিনের সঙ্গে বেড়ে চলা সীমান্ত উত্তেজনায় মেজাজ ভাল নেই 'বন্ধু' মোদীর, খবর রাখছেন ট্রাম্প

ভারত থেকে শুয়োরের একটা বড় অংশ আমদানি করে চিন। এই অবস্থায় নিষেধাজ্ঞা জারির ফলে চিন নিজস্ব শুয়োর উৎপাদন বৃদ্ধির দিকে জোর দিচ্ছে। এদিকে ক্রমেই লাদাখ সীমান্তে  চিন ও ভারতের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারতের তরফে রাস্তা তৈরি নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে দুই দেশের মধ্যে। এর মধ্যেই দুই দেশ নিজেদের সীমান্তে সেনা বাড়াতে শুরু করেছে। দুই দেশই যুদ্ধপ্রস্তুতি চালাচ্ছে। তার মধ্যেই চিনের শুয়োর আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্ত এবার ভারত-চিন বাণিজ্যিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। 

বর্তমানে ভারতে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। ইতিমধ্যে দেশে কোভিড ১৯ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা চিনের দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। মৃত্যু মিছিলেও চিনকে ছাড়িয়ে গিয়েছে ভারত। এরমধ্যেই চিনের পাঠআনো পিপিই কিট খারাপ থাকায় তা ফেরত পাঠিয়েছিল ভারত। যা খুবএকটা ভালভাবে নেয়নি বেজিং প্রশাসন। তার প্রতিশোধ নিতেই এবার শুয়োর আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞই। এরমধ্যেই ভারতে দু'মাসের বেশি লকডাউন চলায় অর্থনীতিতে তলানিতে এসে পৌঁছেছে। চিনের শুয়োর আমদানি বন্ধের ফলে দেশের বিপর্যন্ত অর্থনীতিতে কিছুটা হলেও প্রভাব পড়বে তা বলাই বাহুল্য।