দেশে বেড়েই চলেছে করোনা সংক্রমণ। তার মধ্যেই ভারত-চিন সীমান্তে নতুন করে তৈরি হয়েছে উত্তেজনা। পরিস্থিতি এমন তৈরি হয়েছে যে দুই দেশ নিজেদের সীমান্তে সামরিক বাহিনী বাড়িয়ে দিয়েছে। আর এই পরিস্থিতিতে সকলকে অবাক করে দিয়েই ভারত ও চিনের মধ্যে হঠাৎ করেই মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই প্রথম নয়, যখনই বিশ্বের কোনও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়, ট্রাম্পকে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিতে দেখা যায়। এর আগে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে ট্রাম্প ঠিক একই ভূমিকা পালন করতে চেয়েছিলেন। তবে সেই প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছিল ভারত সরকার। উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা বাড়লে একই ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল ট্রাম্পকে। তবে ট্রাম্পের এবারের  মধ্যস্থতার প্রস্তাব মূলত চিনকে চাপে ফেলতেই বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ। 

দিন কয়েক আগেই আচমকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট দেখা গিয়েছিল দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিতে। ফের একবার নিজের সেই মধ্যস্থতার প্রস্তাবের পুনরাবৃত্তি করতে দেখা গেল  মার্কিন প্রেসিডেন্টকে।  ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন,  তিনি মোদীর সঙ্গে এই ব্যাপারে নাকি কথা বলেছেন। ট্রাম্পের কথায়, এই সীমান্ত সংঘাত নিয়ে মোদী ‘গুড মুড’ (ভালো মেজাজ)-এ নেই।

আরও পড়ুন: বিদেশের মাটিতে অক্ষত অবস্থায় চাপা পড়ে ৯০০ শতাব্দীতে তৈরি শিবলিঙ্গ, উদ্ধার করল এএসআই

বরাবরই মোদীকে নিজের বন্ধু বলে এসেছেন ট্রাম্প। ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে তিনি ভদ্রলোক হিসেবে পছন্দ করেন বলেই জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, ভারত ও চিনের মধ্যে একটা ‘বড় দ্বন্দ্ব’ চলছে। দুটি দেশের প্রতিটিতেই ১৪০ লক্ষের বেশি মানুষের বাস। দুই দেশেরই সামরিক বাহিনী শক্তিশালী। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত খুশি নয় এবং সম্ভবত চিনও খুশি নয়। এরপরেই ট্রাম্প বলেন,  ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন, চিনের সঙ্গে যা চলছে, তাতে মন ভালো নেই তাঁর।

সীমান্ত সমস্যা মেটাতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে ট্রাম্প অবশ্য বেজিংয়ের বিরুদ্ধে আক্রমণ জারি রেখেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্যুইট করেন, ‘‘গোটা বিশ্বে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। করোনা বিশ্বকে দেওয়া চিনের অত্যন্ত  খারাপ উপহার।’’

আরও পড়ুন: আমেরিকায় মৃত্যু মিছিল ১ লক্ষ ছাড়িয়ে গেল, এবার সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধের হুমকি দিলেন ট্রাম্প

তবে ভারত-চিন সীমান্তে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়ে গেলেও অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের দেওয়া মধ্যস্থতার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে দিল্লি। বরং  দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে জোর দিতে চাইছে ভারত। বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের মধ্যস্থতা  প্রসঙ্গে বিদেশ মন্ত্রক জানায়, শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যা সমাধানে সীমান্তরেখায় সক্রিয় রয়েছে দুই দেশের বাহিনী। যেহেতু এটা দ্বিপাক্ষিক সমস্যা, তাই মধ্যস্থতার দরকার নেই।  বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেছেন, "কূটনৈতিক স্তরে দিল্লি ও বেজিং আলোচনা চালাচ্ছে। পাশাপাশি সামরিক স্তরে উত্তেজনা কমাতে আলোচনা করছে দুই দেশের বাহিনী। সীমান্তে শান্তি ও স্থিতি বজায়ে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এই দুই পড়শি দেশ।"