করোনাভাইরাস সংক্রমণ রুখতে রবিবারই ভারতে পালিত হয়েছে জনতা কার্ফু। কার্ফুর মধ্যে বিকেল ৫টায় মানুষ বেরিয়ে আসেন বারান্দায়, থালা-কাঁসর-ঘন্টা বাজিয়ে বা করতালি দিয়ে স্বাস্থ্যকর্মী ও জরুরী পরিষেবা কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়েছে গোটা দেশ। চিনেও একইদিনে সেখানকার স্বাস্থ্যকর্মীদের ধন্যবাদ জানানো হল। তবে আরও অভিনবভাবে, ব্যক্তিগত স্তরে নেমে এসে।

চিনের ফুঝোও শহরে রবিবার চিকিৎসা পরিষেবায় যুক্ত চিকিৎসক ও নার্সদের ধন্যবাদ জানিয়ে শহরের বিভিন্ন বাড়ির গায়ে ও বড় বড় স্ক্রিনে এক এক করে প্রত্যেক চিকিৎসক, নার্স অ্যাম্বুল্যান্স কর্মীদের ছবি প্রদর্শন করা হয়। গত কয়েকদিন ধরে চিনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত ডিসেম্বরে চিনের উহান শহর থেকেই প্রথম কোভিড -১৯ আক্রান্তের কথা জানা গিয়েছিল। উহান লকডাউন করে ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চিন কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। ফুজোও থেকেও বহু চিকিৎসাকর্মী উহানে গিয়েছিলেন অবস্থা সামাল দিতে। রবিবারই, তাঁরা শহরে ফিরেছেন। আর ওইদিনই তাঁদের বীরের সম্মান দেওয়া হল।

চিনা নাগরিকদের এই পদক্ষেপ-এর একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছে এভাবে ফুজোও-র নাগরিকরা শহরের ২০০-রও বেশি চিকিৎসা পরিষেবায় যুক্ত থাকা মানুষকে সম্বর্ধনা দিয়েছে। তাঁরা এতদিন উহানের ১৬টি বিভিন্ন হাসপাতালে মোতায়েন ছিলেন। বাড়ি ফিরে তাঁরা দেখলেন বিভিন্ন ভবনের গায়ে তাঁদেরই মুখচ্ছবি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য এই চিকিৎসা কর্মীরা প্রতিদিন নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন। তাই, এই কৃতজ্ঞতা তাঁদের অবশ্যই প্রাপ্য।

তবে ফুজোও চিনের একমাত্র শহর নয় যেখানে চিকিৎসাকর্মীরা এই সম্মান পেলেন। নানজিং, হ্যাংজু, তিয়ানজিন এবং নানচং-এর মতো বেশ কিছু শহরেও একইভাবে বা অন্য পন্থায় তাঁদের স্বাস্থ্য পরিষেবা কর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে দেখা গিয়েছে। কিছু দিন আগে, উহান শহরের বাসিন্দারা চিকিৎসকদের প্রতি বাহবাসূচক বাক্যে, বিভিন্ন ভবন এবং সেতুগুলি আলোকিত করেছিলেন।