আর সুতোর টানে নাচছে না হাতের পুতুল। আগ বাড়িয়ে, নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির (এনসিপি) দুই প্রতিদ্বন্দ্বী অংশকে ঐক্যবদ্ধ করতে গিয়ে মুখ পুড়ল চিনের। গত কয়েকদিনে প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দহাল ওরফে প্রচন্ডর নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট পার্টির দুই অংশের তীব্র দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত নেপালের রাজনীতি। ভেঙে দেওয়া হয়েছে সরকার। এই অবস্থায় কাঠমাণ্ডুর উপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কায় বেজিং থেকে দূত পাঠিয়েছিলেন শি জিনপিং। কিন্তু, তিনি কাজের কাজ কিছুই করতে পারেননি। এই অবস্থায় নেপালের জন্য 'প্ল্যান বি' তৈরি করছে বেজিং, এমনটাই জানা যাচ্ছে।

নেপালের সরকার ভেঙে কেপি শর্মা ওলি নতুন করে নির্বাচনের ডাক দিয়েছেন। তার প্রেক্ষিতে তাঁকে দলের চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন প্রচন্ড ও তাঁর অনুগামীরা। এই অবস্থায় কাঠমাণ্ডুতে চিনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের ভাইস মিনিস্টার গুও ​​ইয়েজো-র নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছিলেন শি জিনপিং। জানা গিযেছে, ওলি, প্রচন্ড এবং মাধবরাও নেপাল - নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির তিন বড় নেতার সঙ্গেই আলাদা আলাদা ভাবে পৃথক বৈঠক করার পরই তাঁদের নিয়ে একটি যৌথ বৈঠকও করেন ইয়েজো। কিন্তু, তাতে সমাধান তো মেলেইনি, ফল্টে বড় ধাক্কা খেতে হয়েছে চিন-কে।

২০১৮ সালে নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি (যুক্ত মার্কসবাদী - লেনিনবাদী) এবং প্রচণ্ড-র নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী) এক হয়ে গঠিত হয়েছিল নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি। সেই একিকরণে বড় ভূমিকা ছিল ইয়োজো-র। কিন্তু এবার তিনি তা তো করতে পারেননি, উল্টে চিনের হাতের পুতুল হিসাবে পরিচিত, কেপি শর্মা ওলি একেবার ভিন্ন সুরে গেয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। জানা গিয়েছে, সরকার ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো সুপারিশটি প্রত্যাহার করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ওলি-কে নির্দেশ দিয়েছিল চিন। কিন্তু ওলি সটান না বলে দিয়েছেন।

এই অবস্থায় নেপালের কমিউনিস্ট পার্টির ভাঙন নিশ্চিত বলেই মনে করছেন রাজনৈচতিক বিশ্লেষকরা। চিনও সেটা বুঝেই দ্বিতীয় পরিকল্পনা ছকেছে বলে জানা গিয়েছে। গুও ​​ইয়োজো, ইতিমধ্য়ে কমিউনিস্ট পার্টির নেতাদের বাইরে, সোমবার জনতা সমাজবাদী পার্টির প্রধান বাবুরাম ভট্টারাই এবং মঙ্গলবার সেই দেশের বৃহত্তম বিরোধী দল নেপালি কংগ্রেসের প্রধান তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবার সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন।

নেপালের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলেছেন, চিনের প্ল্যান বি-তে, প্রধানমন্ত্রী ওলিকেই শত্রু হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে। তাঁকে বাদ দিয়েই কমিউনিস্ট পার্টির প্রচন্ড-মাধবরাও  নেপাল অংশের সঙ্গে নেপালি কংগ্রেস এবং জনতা সমাজবাদী পার্টির মতো নেপালের অন্যান্য রাজনৈতিক দলের জোট গড়ে বিকল্প সরকার গঠনের চেষ্টা করছে বেজিং। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্য়েই ওলির বিশ্বাসযোগ্যতা হ্রাস করার জন্য চিনের তরফে প্রচেষ্টা শুরু করে দেওয়া হবে, বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে যেমনটাই হোক না কেন, কাঠমণ্ডুতে চিনের নিয়ন্ত্রণ যে কমতে চলেছে, সেই বিষয়টি পরিষ্কার। চিনের উস্কানিতেই ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মতানৈক্যে জড়াচ্ছিল ওলির নেপাল, এমনটাই মনে করেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। সেইসব পদক্ষেপের প্রকাশ্যেই সমালোচনা করেছিলেন প্রচন্ড। তিনি কিন্তু অন্ধের মতো চিনের আদেশ পালন করার লোক নন। আর জোট সরকার হলে তাঁর ক্ষমতা তো আরই কম থাকবে।