বিশ্ব জুড়ে এই মহামারির জন্য দায়ি কে  মামলা করতে পথে সন্তান হারা মা বাধা আর হুমকির মুখে বৃদ্ধা নিজের মনোভাবে এখনও অটল   

করোনাভাইরাসে মৃত ছেলের ছবি হাতে এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত ঘুরে যাচ্ছে বৃদ্ধ মা। কিন্তু কোনও লাভ হচ্ছে না। বাকি জীবনে তাঁর একটাই উদ্দেশ্য করোনাভাইরাসের ওই মহামারির জন্য দায়ি কে? সেটা জানার । আর সেই কারণেই সরকারকে দায়ি করে একটি মামলা রুজু করেতে চান তিনি। কিন্তু শি জিংপিং প্রশাসনের প্রবল বাধার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। তিনি উহান শহরের বাসিন্দা অবসরকালীন ভাতা প্রাপ্ত ঝোং হ্যানেনগ। তাঁর অভিযোগের তালিকা আরও দীর্ঘ। তিনি জানিয়েছে মামলা দায়ের করতে সাহায্য করার জন্য কোনও আইনজীবী এগিয়ে আসেননি। উল্টে আইনজীবীরা বারবার সতর্ক করেছেন তাঁরা। তবে ঝোং হ্যানেনগ একা নন। চিনে এজাতীয় পরিবারের সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে। পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রশাসনের চাপ। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ঝোংএর দাবি তাঁর ছেলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। তাঁর পরিবারের পুরোপুরি ভেঙে গেছে। আর কোনও দিনই তিনি ভালো থাকতে পারবে না। তিনি জানিয়েছেন সেই সময় প্রথম দিকে কোনও সতর্কতা ছিল না। চন্দ্র নববর্ষেই উৎসব নিয়ে তাঁরা মেতেছিলেন। তাঁর ছেলে স্থানীয় একটি প্রথমিক স্কুলের শিক্ষক। মাত্র ৩৯ বছর বয়স ছিল পেং ইয়ের। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা না থাকায় তাঁর সংসার ভেঙে গেছে। তিনি জানিয়েছেন চলতি বছর জানুয়ারির শেষে উহানে এই রোগটি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে পরিস্থিতি যখন হাতের বাইরে চলে যায় তখন তা ধামাচাপা দিতে উদ্যোগ নেয়। কড়াকড়ি জারি করে। ২৪ জানুয়ারি থেকে লকডাউন শুরু হয় উহানে। 

ঝোং-এর কথায় এই মহামারিটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছিল। কিন্তু করুণ পরিণতির জন্য দায়ি মানুষ। তাই দোষীদের খুঁজে বার করতে চান ৬৭ বছরের ছেলে হারা মা। যিনি নিজেও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন দীর্ঘ প্রচেষ্টা পর এখনও পর্যন্ত উহান ইন্টারমিডিয়েট আদালতে কমপক্ষে পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বাদী পক্ষরা প্রায় ২৯৫,০০০ মার্কিন ডলার ক্ষতিপুরণ চেয়েছে। তবে আদালত অনির্ধারিত প্রক্রিয়াগত ভিত্তিতেই মামলাগুলি প্রত্যাক্ষাণ করেছে। অভিযোগ এখানেই থেকে থাকেনি সরকার। অভিযোগ যেসব পরিবার সরকারের বিরুদ্ধে সরব তাদের ক্রমাগত হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে। ব্লক করা হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট। তবে এখনও পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেনি উহান সরকার। তবে ঝোং-ও হারতে শেখেননি। তিনি উচ্চতর আদালতে মামলা করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন।