এ যেন একেবারে উলটপুরান। জানুয়ারির শেষ  দিকে চিনে একের পর এক বিমান পাঠিয়ে সেখানে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের ফিরিয়ে এনেছিল ভারত। আর এবার সেই একই কাজ করতে চলেছে চিন। ভারত থেকে তাদের নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চিন। এদিন নয়াদিল্লির চিনা দূতাবাস থেকে বলা হয়েছে, চিন সরকার বিদেশে থাকা চিনা নাগরিকদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। আর এই বিবৃতি থেকেই তৈরি হয়েছে জল্পনা, করোনা না লাদাখ সীমান্তের উত্তেজনা - কিসের আঁচ থেকে নাগরিকদের সুরক্ষিত রাখতে চাইছেন শি জিনপিং?

সোমবারই চিনা দূতাবাস থেকে জানা গিয়েছিল, তারা ভারতে থাকা তাদের নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছে। এদিন, দূতাবাস থেকে তাদের মুখপাত্র জি রং বলেন, 'চিন সরকার বিদেশে থাকা চিনা নাগরিকদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা-কে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। ভারতে মহামারী পরিস্থিতি বিকাশের কথা বিবেচনা করে, চিনা কর্তৃপক্ষ ভারতে অসুবিধায় পড়া শিক্ষার্থী, পর্যটক এবং ব্যবসায়ী পরিদর্শকদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বিমান পাঠানোর পরিকল্পনা করছে'।

চিনা দূতাবাস থেকে জানানো হয়েছে, ছাত্র, পর্যটক এবং অস্থায়ী ব্যবসায়ী পরিদর্শকরা, যারা চিন ফিরে যেতে চান এবং ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছেন, তাদের সুবিধার জন্যই এই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে চিনা নাগরিকদের নিজেদেরই এই যাত্রার বিমান ভাড়া ও অন্যান্য খরচ দিতে হবে। ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্টদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি, বিমানে বিচ্ছিন্নকরণ এবং মহামারি প্রতিরোধে অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণের যা ফিরিস্তি দেওয়া হয়েছে, তাতে বিমানভাড়া অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেশ বেশিই পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে দূতাবাস চিনা নাগরিকদের আশ্বস্ত করে বলেছে 'যুক্তিসম্মত দাম'ই হবে টিকিটের।

তবে জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্টের মতো কোভিড-১৯ রোগের লক্ষণ যাদের রয়েছে, কিংবা যারা সদ্য কোনও করোনাভাইরাস রোগীর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগে এসেছেন, তাদের উড়ানের টিকিট না কাটার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। শরীরের তাপমাত্রা ৩৭.৩ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড ছাড়িয়ে গেলেই আর বিমানে উঠতে দেওয়া হবে না।

তবে দেশে ফেরার পর বিমানের যাত্রীদের কঠোর পৃথকীকরণ ব্যবস্থায় থাকতে হবে। কোনও যাত্রী যদি অসুস্থতা এবং রোগীর সঙ্গে যোগাযোগের কথা গোপন করেন, তবে জনসুরক্ষা বিপন্ন করার জন্য দায়ী করে শাস্তি দেওয়া হবে। এছাড়া প্রত্যেক যাত্রীর বাধ্যতামূলকভাবে নিউক্লিক অ্যাসিড এবং রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হবে।

করোনাভাইরাস মহামারির প্রেক্ষাপটে গত কয়েক মাসে ভারতের মতো অনেক দেশই ভিনদেশে থাকা নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে এনেছে। কাজেই বিষয়টায় নতুনত্ব কিছু নেই। ভারত লকডাউন তোলার পথে এগোলেও, এই সময়ি করোনার দাপট বাড়ছে এই কথাও ঠিক। তবে ঘটনাচক্রে, গত কয়েকদিন ধরে লাদাখ সীমান্তে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। মঙ্গলবারই এই বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী দুজনেই শীর্ষ সামরিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। চিনের এই নয়া পদক্ষেপ নাগরিকদের করোনাভাইরাস মহামারি না আসলে এই উত্তেজনার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য, সেই বিষয়টি অস্পষ্টই রয়েছে।