তছনছ হয়ে যাবে পূর্বে অরুণাচল থেকে পশ্চিমে পাকিস্তান। পুরো ধ্বংস হয়ে যেতে পারে দিল্লিও। মৃত্য়ু হতে পারে কোটি কোটি মানুষের। হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলে এমনই বড় মাপের ভূমিকম্প হতে চলেছে। রিখটার স্কেলের মাত্রা পৌঁছতে পারে ৮ বা তারও উপরে। এমনই পূর্বাভাস দিয়েছে, ভূতাত্ত্বিক, ঐতিহাসিক এবং ভৌগোলিক তথ্যের পর্যালোচনা ভিত্তিক এক সাম্প্রতিক গবেষণা।

অগাস্ট মাসে সিসমোলজিকাল রিসার্চ লেটারস জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এই গবেষণা। হিমালয় অঞ্চলের প্রাগৈতিহাসিক ভূমিকম্পগুলির আকার এবং সময় নির্ধারণ করে তার ভিত্তিতে ভবিষ্যতের ঝুঁকির মূল্যায়ন করেছেন গবেষকরা। স্ট্রেগ্রিগ্রাফিক বিশ্লেষণ, কাঠামোগত বিশ্লেষণ, মাটি বিশ্লেষণ এবং রেডিও কার্বন বিশ্লেষণ-এর মতো মৌলিক ভূতাত্ত্বিক নীতিগুলি ব্যবহার করে গবেষকরা জানতে পেরেছেন, পুরো হিমালয়ান আর্কটিতেই বড় মাপের বেশ কয়েকটি ভূমিকম্প হতে পারে এবং পরবর্তী কালে আসবে সেই ওলটপালট করে দেওয়া মহা-ভূমিকম্প।

পূর্বে অরুণাচল প্রদেশ থেকে শুরু করে পশ্চিমে পাকিস্তান পর্যন্ত ছড়িয়ে রয়েছে হিমালয়ান আর্ক - বলা যেতে পারে ভারতের উপরের দিকটা পুরোটা জুড়েই রয়েছে। গবেষণাপত্রটির অন্যতম লেখক স্টিভেন জি ওয়েসনোস্কি জানিয়েছেন তাঁরা জানতে পেরেছেন এই পুরো বিস্তৃতিটিই অতীতে বড় বড় ভূমিকম্পের উত্সস্থল ছিল। তাদের বৈজ্ঞানিক মডেল বলছে এই ভূমিকম্পগুলি ফের দেখা দেবে এবং তা ঘটার প্রবল সম্ভাবনা আমাদের জীবদ্দশাতেই। খুব বেশি হলে ১০০ বছরের মধ্যে। আর, এই অঞ্চল ঘিরে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, চিন, ভুটানের মতো জনবহুল ও ভারি জনঘনত্বের দেশ। কাজেই এইসব বড় ভূমিকম্পে নজিরবিহীন প্রাণহানির সম্ভাবনা রয়েছে বলে গবেষকরা জানিয়েছেন।

এর আগে স্যাটেলাইট থেকে পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে জানা গিয়েছিল, হিমালয় পার্বত্য় অঞ্চলের বহু জায়গাতেই চাপ জমা হয়েছে। তবে, ওয়েসমনস্কি বলেছেন, স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সক্রিয় ভূমিকম্পের চ্যুতিরেখাগুলির অবস্থান এইভাবে সনাক্ত করা গেলেও, অতীতের কোনও ভূমিকম্পের খতিয়ান স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ দিতে পারে না। সেগুলির আকার সম্পর্কে কোনও ধারণা দিতে পারে না। তাই, স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও অতি সাম্প্রতিক প্রাগৈতিহাসিক ভূমিকম্পের সময় ও আকার পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে দেখা গিয়েছে, মহা-ভূমিকম্পের জন্য পুরো এলাকাতেই যথেষ্ট পরিমাণে চাপ জমে উঠেছে।

কলকাতার ভারতীয় বিজ্ঞান শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্র বা আইআইএসইআর এর পৃথ্বি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক তথা সিসমোলজিস্ট সুপ্রিয় মিত্র জানিয়েছেন, এই গবেষণায় জানা গিয়েছে ৮-এর বেশি মাত্রার একটি মহা-ভূমিকম্পের জন্য হিমালয়ের চ্যুতিরেখাগুলি প্রস্তুত রয়েছে। সত্যিই ভবিষ্যতে একটা বিশাল ভূমিকম্প হতে চলেছে। কিন্তু তা কখন হবে তা কেউ বলতে পারে না।

হিমালয়ের সামনের দিকের প্রধান চ্যুতিরেখাটির কাছেই রয়েছে ভারতের চণ্ডীগড় ও দেরাদুন এবং নেপালের কাঠমান্ডু। তবে ওয়েসনস্কি বলেছেন, ভূমিকম্পটি এত শক্তিশালী ও ক্ষতিকারক হতে চলেছে, যে তার ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়তে পারে ভারতের রাজধানী দিল্লিতেও।

উত্তর ভারত গত চার মাসে বেশ কয়েকটি ছোট মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে। তবে তা যে বড় ভূমিকম্পের পদধ্বণি তেমনটা নাও হতে পারে বলে মনে করছেন ভূবিজ্ঞানীরা। কারণ ছোট ছোট ভূমিকম্পগুলির সঙ্গে ভবিষ্যতের বৃহত্তর ভূমিকম্পের সময়কালের মধ্যে এখনও কোনও নিয়মতান্ত্রিক সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায়নি। কাজেই নিশ্চিত করে কিছু বলা যায় না। তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, যে প্রাগৈতিহাসিক ভূমিকম্পগুলি নিয়ে তাঁরা গবেষণা করেছেন সেগুলি এখন যে ছোট ভূমিকম্পগুলি দেখা যাচ্ছে, তার থেকে কয়েক হাজার গুণ শক্তিশালী ছিল।