বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা যে ৮৮৪৮ মিটার, সেটা স্কুলের ছেলেমেয়েরাও জানে। কিন্তু চিনের হিসাব অনুযায়ী এভারেস্টের উচ্চতা ৮৮৪৪.৪৩ মিটার। এই নিয়ে নেপালের সঙ্গে চিনের
মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। আর সে কারণে এভারেস্টের উচ্চতা আরও একবার পরিমাপ করতে সেখানে পৌঁছয় চিনা সার্ভে দল। মে মাসে চিন এভারেস্টের যে উচ্চতা প্রকাশ করেছিল, তা নেপালের হিসাবের থেকে চার মিটার কম। এতে আপত্তি জানায় নেপাল। এভারেস্টের আসল উচ্চতা মানুষের জ্ঞান ও বিজ্ঞানীদের গবেষণায় সাহায্য করবে বলে জানিয়েছে চিন।


এর আগে ১৯৭৫ ও ২০০৫ সালে এভারেস্টের উচ্চতা প্রকাশ করেছিল চিন। সেই দু-বার চিনের হিসাবে এভারেস্টের উচ্চতা ছিল ৮৮৪৮.১৩ মিটার এবং ৮৮৪৪.৪৩ মিটার। 

২০১৫ সালের ২৫ এপ্রিল নেপালে যে ভূমিকম্প হয়েছিল তাতে বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্টের উচ্চতা কমে গেছে কিনা; তা নতুন করে মেপে দেখার উদ্যোগ নিয়েছিল ভারতের জরিপ বিভাগ। ভারতের সার্ভেয়ার জেনারেলর বলেন, সেই ভূমিকম্পে এভারেস্টের উচ্চতা কমে গেছে বলে কিছু বিজ্ঞানী বিশ্বাস করেন।

 

ভারতের একটি জরিপে ৬২ বছর আগে বলা হয়েছিল এভারেস্টের উচ্চতা ২৯ হাজার ২৮ ফুট, বা ৮ হাজার ৮৪৮ মিটার। সেটাকেই এভারেস্টের স্বীকৃত উচ্চতা বলে মানা হয়। তবে চিনের একটি সরকারি রিপোর্ট বলেছে, ২০১৫ সালের ২৫শে এপ্রিল ৭ দশমিক ৮ মাত্রার যে ভূমিকম্প হয়েছিল, তার ফলে এভারেস্ট ৩ সেন্টিমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে সরে গেছে।


সম্প্রতি বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্টের উচ্চতা ৮ হাজার ৮ শো ৪৪. ৪৩ মিটার বলে জানায় চিনা সার্ভে টিম। এভারেস্টের তিব্বত জোন থেকে সামিট করে এই উচ্চতা নির্ধারণ করে চিনা সার্ভে টিম জানায়, নেপাল এতদিন এভারেস্টের যে উচ্চতার কথা বলে আসছে প্রকৃতপক্ষে তার চেয়ে উচ্চতা ৪ মিটার কম। স্যাটেলাইট সিস্টেম এন্টেনা প্রতিস্থাপন করে প্রযুক্তির সাহায্যে তুষারঢাকা পর্বতের উচ্চতা পরিমাপ শুরু করে চিনের দলটি, যাতে ২০ স্কয়ার মিটার বা প্রায় চার মিটার উচ্চতা কম পায় নেপালের হিসাব থেকে। পরিকাঠামোগত উন্নয়নে নেপালের চেয়ে আন্তর্জাতিক পর্বতারোহীরা তিব্বতের সাইড বেছে নিচ্ছে বলে দাবি
চিনের।

করোনা ভাইরাসের কারণে নেপাল তাদের পাশ থেকে সামিট বন্ধ রাখলেও তিব্বতের পাশ থেকে মে মাসের পর খুলে দেওয়া হয়। চিনা মোবাইল কোম্পানি হুয়াওয়ে ইতিমধ্যে এভারেস্টে বিশ্বের সর্বোচ্চ ৫জি নেটওয়ার্ক
চালু করেছে। যেটা সাড়ে ৬ হাজার মিটার উচ্চতায় স্থাপন করা। এই নেটওয়ার্ক সক্ষমতা সর্বোচ্চ চূড়া পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া যায় কিনা তা এখনও গবেষণাধীন বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।