গোটা পৃথিবীতেই তাঁর অভিনয় প্রশংসা পেলেও, বরাবরই ফ্রান্সের সঙ্গে সৌমিত্র 'অপু' চট্টোপাধ্যায়ের অন্য রসায়ন রয়েছে। বাংলার পর ফ্রান্সেই সবচেয়ে বেশি মাতামাতি অপু-কে নিয়ে। রবিবার সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াণের পর স্বাভাবিকভাবেই শোকবার্তা এল শিল্বপ-সংস্কৃতির দেশ ফ্রান্স থেকেও।

এদিন নয়াদিল্লির ফরাসী দূতাবাস টুইট করে এই প্রবাদ প্রতীম অভিনেতার প্রয়াণে শোকবার্তা প্রকাশ করেছে। ভারতে নিযুক্ত ফরাসী রাষ্ট্রদূত ইমানুয়েল লেনাইন জানিয়েছেন, 'কিংবদন্তি অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্য়ায়ের প্রয়াণের খবর জানতে পেরে আমি গভীরভাবে শোকাহত। একজন বহুমুখী শিল্পী হিসাবে তিনি গোটা বিশ্বের প্রশংসা এবং পুরস্কার পেয়েছিলেন, যার মধ্যে ছিল অর্ডার অফ আর্টস অ্যান্ড লেটারস এবং লিজিয়ন অব অনার। তাঁর পরিবার ও অনুরাগীদের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা রইল।'

শুধু, নয়াদিল্লির ফরাসী দূতাবাস থেকেই নয়, শোক প্রকাশ করেছে কলকাতায় অবস্থিত ফরাসী কনসুলেটও। কলকাতার আলিয়স ফঁসে থেকে বলা হয়েছে, বাঙালি চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াণে কলকাতার ফরাসী কনসাল জেনারেল গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁকে বাংলার আইকনিক অভিনেতা, এবং কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের মিউস বা অনুপ্রেরণা বলে উল্লেখ করেছে তারা। সবশেষে তারা বলেছে 'ফ্রান্স অপুর আত্মাকে সেলাম জানায়'।

রবিবার দুপুরে পরলোক গমন করেছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্য়ায়। বরাবরই ফ্রান্স তাঁকে বিভিন্ন সম্মানে ভূষিত করেছে। ১৯৯৯ সালে প্রথম ভারতীয় চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব হিসাবে তিনি 'অর্ডার অফ আর্টস অ্যান্ড লেটারস' সম্মান পেয়েছিলেন। আর ২০১৩ সালে তাঁকে সর্বোচ্চ অসামরিক ফরাসী সম্মান 'লিজিয়ন অব অনার'-এ ভূষিত করা হয়েছিল।