যুগান্তকারী অবিষ্কার। এমনটাই মনে করা হচ্ছে। সিরিজের শেষ চলচ্চিত্রে, বয়স কমিয়ে জোয়ান হতে চেয়েছিল গুপি-বাঘা। শুধু তাদের কেন, এই আকাঙ্খা কম বেশি সব মানুষেরই থাকে। কিন্তু, ভূতের রাজাও তাদের সেই বর দিতে পারেননি। তবে সেই কাজটা করে দেখালেন ইসরাইলের একদল গবেষক। তাঁদের দাবি বয়স বাড়ার প্রক্রিয়াকে তারা উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার উপায় খুঁজে পেয়েছেন। আর তা করা যাবে শুধুমাত্র অক্সিজেন ব্যবহার করেই।

তেল আভিভ বিশ্ববিদ্যালয় এবং শামির মেডিকেল সেন্টারের বিজ্ঞানীরা এই বিষয়ে একটি গবেষনা চালিয়েছেন। অ্যাগিং জার্নালে সেই গবেষণালব্ধ ফল প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁরা জানিয়েছেন, এই গবেষণার জন্য তাঁরা ৬৪ ঊর্ধ্ব বয়সী ৩৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে প্রতিদিন ৯০ মিনিটের জন্য 'হাইপারবারিক অক্সিজেন ট্রিটমেন্ট' বা এইচবিওটি দিয়েছিলেন। 'হাইপারবারিক অক্সিজেন ট্রিটমেন্ট' হল একটি চেম্বারে উচ্চ চাপে অক্সিজেন সরবরাহ করা।  তিনমাস ধরে সপ্তাহে পাঁচবার করে এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতেন তাঁরা।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বয়স বাড়ার অন্যতম কারণ হল মানব কোষের ক্রোমোসোম প্রান্ত বা টেলেমিয়াজ-এর ক্ষয়। জুতোর ফিতে দীর্ঘদিন টেকার জন্য তার মাথায় যেমন প্লাস্টিকের ক্যাপ পরানো থাকে, তেমনই ক্রোমোজোমকে সুরক্ষিত রাখতে থাকে এই টেলেমিয়াজ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার আকার ছোটো হতে থাকে। আর তারফলে কার্যক্ষমতা হারাতে থাকে ক্রোমোজোম। এই টেলেমিয়াজ-এর ক্ষয় রোধ করতে পারলে বার্ধক্যও ঠেকানো যেতে পারে।

ইজরাইলি বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়েই গবেষকরা ওষুধ প্রয়োগ করে এবং পরিবেশগত হস্তক্ষেপে কীভআবে টেলেমিয়াজ-এর ক্ষয় রোধ করা যায়, তাই নিয়ে গবেষণা করছেন। তাঁদের এইচবিওটি প্রোটোকল এই কাজ করে দেখিয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁরা। শুধু বার্ধক্য ঠেকানোই নয়, তাঁদের দাবি এই প্রক্রিয়ায় একেবারে শরীরের কোষের আণবিক স্তরে বয়স হওয়ার প্রক্রিয়াকে বিপরীতমুখী করা যেতে পারে। এভাবে ২৫ বছর পর্যন্ত কমতে পরে বয়স।

আরও পড়ুন - বেড়াতে গেলেই মিলবে করোনা ভ্যাকসিন, অবাক করা পর্যটন চালু করল মুম্বইয়ের সংস্থা

আরও পড়ুন - গোটা ভারতের টিকাকরণে লাগবে ৩ বছর, সুস্বাস্থ্যের অধিকারীদের কপাল সবথেকে খারাপ

আরও পড়ুন - একের পর এক মৃতদেহ ধর্ষণ, বাংলাদেশে সিরিয়াল কিলার ধরতে গিয়ে সামনে এল বিকৃত অপরাধ

অন্যদিকে জাপানি মহাকাশ সংস্থা জ্যাক্সা এবং তোহোকু বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের করা এক গবেষণায় জানা গিয়েছে, নিউক্লিয়ার ফ্যাক্টর এরিথ্রয়েড ২-রিলেটেড ফ্যাক্টর ২ বা এনআরএফ ২ নামে কোষের অভ্যন্তরে একটি প্রোটিন থাকে, যা বার্ধক্যের গতিকে কমিয়ে দিতে পারে। এই গবেষণার জন্য বিজ্ঞানীরা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে বা আইএসএস-এ কয়েকটি ইঁদুর পাঠিয়েছিলেন। পরে দেখা যায়, এনআরএফ ২ প্রোটিন নেই এমন যে ইঁদুরগুলিকে আইএসএস-এ পাঠানো হয়েছিল, তারা এনআরএফ ২ প্রোটিন থাকা ইঁদুরদের সমপরিমাণ খাবার-জল পেলেও তাদের ওজন বাড়েনি। এই গবেষণা ডায়াবেটিস এবং আলঝাইমার্স-এর মতো বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার চিকিত্সার ওষুধ তৈরিতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।