শোকের ছায়া যে দেশে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়, সেখানে শোক সংবাদেই তো ছেয়ে যায় খবরের কাগজ। এতে আর আশ্চর্যের কী আছে। তবু ইতালির দৈনিক কাগজগুলো এখনও আমাদের বিস্মিত করছে! কারণ,  মাত্র দু-মাস আগে যে দেশের দৈনিকে  শোকসংবাদ বা স্মরণের জন্য় বরাদ্দ করা হয় মাত্র এক পাতা, সেখানে দুমাসের ব্য়বধানে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১০ পাতায়!

 

গত বছর ডিসেম্বরের শেষে চিনের উহান থেকে শুরু হয় করোনার প্রকোপ।  ক্রমে তা বিশ্বের নানা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। যদিও সপ্তাখানেক কি সপ্তাদুয়েক আগে করোনার এপিসেন্টার চিন থেকে সরে ইউরোপ থেকে আবর্তিত হতে শুরু করে। ইউরোপের মধ্য়ে করোনায় সবচেয়ে বেশি বিধ্বস্ত হয় ইতালি। সেদেশে এখনও পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্য়া কুড়িহাজারের ছুঁইছঁই। আর মৃতের সংখ্য়া ১৮০০। এই পরিস্থিতিতে যে মৃত্য়ু উপত্য়কা হয়ে  উঠছে গোটা দেশ। চারদিকর অবরুদ্ধ আর স্তব্ধ। তবু তারই মধ্য়ে বেঁচে থাকার বেশ কিছু সাড়া-শব্দ বুঝিয়ে দিচ্ছে,  এখনও প্রাণ আছে। বাড়ির ভেতর রুদ্ধ-বদ্ধ অবস্থায় থেকেও পাড়াসুদ্ধ লোক একসাথে গান গাইছেন গলা ছেড়ে। যা মুহূর্তের মধ্য়ে গোটা বিশ্বে ভাইরাল হয়ে পড়ছে।

 

তবে সেই সঙ্গে এমন কিছু ভাইরাল হচ্ছে, যা দেখে মুষরে পড়ছেন নেটিজেনদের।  যেমন , ২৪ ঘণ্টা  হাসপাতালে রোগীদের দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে কোন ফাঁকে ল্য়াপটপের কি-বোর্ডের ওপর মাথা ঝুঁকিয়ে শুয়ে পড়ছেন অ-ক্লান্ত কোনও নার্স। আবার ধরা যাক, খবরের কাগজে অনবরত বেড়ে চলা শোক সংবাদের বহর।

 

 সম্প্রতি ইতালির একটি দৈনিকে প্রকাশিত শোক সংবাদের বহর দেখে শিউরে উঠেছেন নেটিজেনরা। সেখানে দেখা যাচ্ছে, একই দিনের একই সংস্করণে একটি দৈনিকের ১০ পাতা জুড়ে ছবি দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে 'স্মরণ' বা 'শোক সংবাদ'। যার ভিডিয়ো ক্লিপিং দেখে শোকার্ত হয়ে পড়েছেন গোটা দুনিয়ার নেটিজেনরা। শুধু তাই নয়। দেখা যাচ্ছে, ফেব্রুয়ারির ৯ তারিখে যে কাগজে রুটিনমাফিক ১ পাতা বরাদ্দ করা হয়েছিল শোকসংবাদের জন্য়, সেখানে মার্চের ১৩ তারিখে বরাদ্দ করা হয়েছে ১০ পাতা!

শোকের ছায়া কি তাহলে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘায়িত হয়ে চলেছে ইতালিতে?