বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস মহামারির সংকটের মধ্যেই ভারত-চিন সীমান্ত দ্বন্দ্ব মাথা চাড়া দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছেন চিন ভারতের ১ ইঞ্চি জমিও দখল করতে পারেনি। এই নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও চিন যে ভারতীয় ভূখণ্ডে এলাকা সম্প্রসারণের চেষ্টা করেছিল, সেই নিয়ে দ্বিমত নেই। গত ১৫ জুন গালওয়ান উপত্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ভারত-চিন উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। তবে শুধু ভারতই নয়, চিনের এই সম্প্রসারণবাদী নীতির হুমকিতে রয়েছে জাপান, তাইওয়ানের মতো দক্ষিণ চিন সাগরীয় বেশ কয়েকটি দেশ। ভারতের সঙ্গে সাম্প্রতিক দ্বন্দ্বের কারণে এই মুহূর্তে সেই দেশগুলিতে নতুন করে সীমান্ত নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই জাপান তার চিনের দিকের সীমান্তে প্রতিরক্ষা বৃদ্ধি করছে বলে জানা গিয়েছে।

অতি সম্প্রতি 'ড্রাগনের' নিঃশ্বাস পড়ার ভয়ে জাপান তাদের বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র চিনের মুখোমুখি তাদের যে সীমান্ত রয়েছে, সেইদিকে স্থাপন করছে। শুধু তাই নয় ওই অঞ্চলে জাপানি সেনাবাহিনীর শক্তিও বৃদ্ধি করা হয়েছে। চিনের সঙ্গে যুদ্ধ হতে পারে এমন আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে, জাপান বিমান প্রতিরক্ষাও বাড়িয়েছে।

জুন মাস শেষের মধ্যেই জাপান তাদের চারটি সামরিক ঘাঁটিতে প্যাট্রিয়ট প্যাক-৩ এমএসই এয়ার ডিফেন্স মিসাইল সিস্টেম মোতায়েন করবে। যে কোনও হিট-টু-কিল হামলা প্রতিরোধ করতে সক্ষম এই প্যাক-৩ এমএসই-গুলি। জাপানে মোতায়েন বর্তমান প্যাট্রিয়ট প্যাক-৩ এর সর্বাধিক পাল্লা ৭০ কিলোমিটার। অর্থাৎ ৭০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে তারা আঘাত করতে পারে। প্যাক-৩ এমএসই-র নতুন সংস্করণগুলিতে পাল্লা বেড়ে ১০০ কিলোমিটার হয়েছে।  

২০১৭ সালের ডিসেম্বরে লকহিড মার্টিন সংস্থা আমেরিকা ও তার সহযোগী দেশগুলিতে এই প্যাট্রিয়ট অ্যাডভান্সড ক্যাপাসিটি-৩ বা প্যাক-৩ ক্ষেপণাস্ত্রগুলির উন্নত সংস্করণ সরবরাহের জন্য ৯৪৪ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছিল। এই আপগ্রেড করা প্যাক-৩ এমএসই-তে একদিকে যেমন বেড়েছে ফায়ারপাওয়ার অর্থাৎ বিস্ফোরকের ক্ষমতা। পাশাপাশি এর পাল্লা এবং কর্মক্ষমতাও বেড়েছে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকারী বিমানের মতো পিএসি -৩ উচ্চ-বেগে আগত হুমকিগুলি সনাক্ত করে ধ্বংস করতে এই 'ইন্টারসেপ্টর'গুলির জুড়ি মেলা ভার।