পশ্চিমী দেশের রূপকথা অনুযায়ী ভ্যাম্পায়ার, অর্থাৎ রক্তচোষা প্রেতাত্মাদের খতম করতে পারে একমাত্র সিলভার বুলেট বা রুপোর গুলি। করোনার ক্ষেত্রে হয়তো এমন কোনও সিলভার বুলেট কোনওদিনই পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ কোভিড-১৯'এর মোকাবিলার জন্য একেবারে নিখুঁত কোনও ভ্যাকসিন নাও মিলতে পারে। এমনটাই বলল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু। তাই কিছু কিছু দেশকে তাদের কোভিড মোকাবিলার কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে হবে। কারণ স্বাভাবিকতায় ফেরার রাস্তাটা অনেক দীর্ঘ হতে চলেছে।

সোমবার বিশ্বজুড়ে হু-এর জেনারেল ডিরেক্টর তেদ্রোস অ্যাধনম ঘেব্রেইসুস এবং সংস্থার জরুরী পরিস্থিতি মোকাবিলা বিভাগের প্রধান মাইক রায়ান জেনেভার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সদর দফতর থেকে একটি ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সেখানেই তেদ্রোস বলেন, বেশ কয়েকটি ভ্যাকসিন এখন ক্লিনিকাল ট্রায়ালের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু, সম্ভবত কোনও একেবারে নিখুঁত টিকা পাওয়া যাবে না। কোনও 'রুপোর গুলি' নেই, কোনওদিনও নাও পাওয়া যেতে পারে। কারণ টিকার সুরক্ষা কেবল কয়েক মাসের জন্য স্থায়ী হতে পারে বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ক্লিনিকাল ট্রায়াল শেষ হওয়ার আগে পুরোটা পরিষ্কার হবে না।

তাই প্রতিটি রাষ্ট্রের জনগণ ও সরকারকে কঠোরভাবে মুখোশ পরা, সামাজিক দূরত্ব, হাত ধোওয়ার এবং করোনাভাইরাস পরীক্ষার মতো স্বাস্থ্যবিধিগুলির অনুশীলন চালিয়ে যেতে হবে। 'ফেস মাস্ক' বিশ্ব-সংহতির প্রতীক হয়ে উঠতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে রায়ান জানিয়েছেন, ব্রাজিল এবং ভারতের মতো যেসব দেশে সংক্রমণ হার এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি তাদের দীর্ঘ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। কিছু কিছু দেশের তাদের মোকাবিলা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন। খতিয়ে দেখতে হবে তাদের কোভিড মোকাবিলার পদক্ষেপ। এবং এই ক্ষেত্রে দেরি করলে চলবে না।