সামনেই আসছে গণেশ চতুর্থী। আর তার আগেই হিন্দু ধর্মের প্রতি চরম অবমাননা প্রদর্শিত হল বিদেশের মাটিতে। একের পর এক গণেশ মূর্তি মাটিতে ফেলে ফেলে ভাঙলেন বোরখা পরা এক মহিলা। আর সেই জঘন্য ধর্মীয় বিদ্বেষের ভিডিওই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। সারা বিশ্বের হিন্দু মননে আঘাত দিয়েছে এই ভিডিও।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটি মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বাহারিন-এর। বাহরাইনের মূলত ইসলামি দেশ হলেও বাহারিনে বসবাসকারী হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। ২০১০ সালের আদমশুমারিতে অনুযায়ী এই দেশের মোট জনসংখ্যার ৯.৮ শতাংশই হিন্দু। বাহরিনের রাজধানী মানামা-র জুফায়ের মহল্লাটি হিন্দু অধ্যুষিত। এই এলাকারই এক সুপার মার্কেটে এই নক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে।

ভিডিওটিতে দেখা গিয়েছে দুইজন বোরখা পরা মহিলা সুপারমার্কেটের যেই তাকে গনেশ-মূর্তিগুলি রয়েছে তার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। এরপর তাঁদের মধ্যে একজন মূর্তিগুলি এক এক করে মাটিতে আছড়ে ফেলে ভাঙতে শুরু করেন। অন্য মহিলা তার মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় সেই ঘটনা রেকর্ড করছিলেন। সুপারমার্কেটের লোকজন বাধা দিতে এলে ওই মহিলা আরবি ভাষায় চিৎকার করে মুসলিম দেশে গণেশের মূর্তি বিক্রি হওয়ার বিষয়ে প্রবল আপত্তি করেন। বাহারিনের রাজা মহম্মদ বেন ইসা-র কথা উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করেন, 'তিনি কি এর অনুমোদন দিয়েছেন?'

প্রকৃতপক্ষে, বাহারিন ইসলামি দেশ হলেও তাদের রাজা এই বিষয়ে যে অনুমোদন দিয়েছেন, তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে পরের ঘটনাক্রমে। পুলিশ ৫৪ বছর বয়সী ওই মহিলার বিরুদ্ধে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের অবমাননা করার অভিযোগ এনেছে। বাহারিনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকও টুইট করে নিশ্চিত করেছে জুফায়ের মহল্লার একটি দোকানে ভাঙচুর করা এবং একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের রীতিনীতিকে অপমান করার জন্য ওই মহিলাকে তলব করা হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে