করোনা মহামারিতে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কী আক্রান্তের সংখ্যা, কী মৃতের সংখ্যা - সব দিক থেকেই বিশ্বের সব দেশের আগে রয়েছে তারা। করোনা মোকাবিলার ব্যর্থতাই ভোটে হারিয়ে দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। সোমবার, ১৪ ডিসেম্বর, সেই দেশে শুরু হয়ে গেল করোনার টিকাকরণ। টুইট করে সেই খবর জানিয়ে বিশ্ববাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

এদিন ডোনাল্ড ট্রাম্প টুইট করে বলেন, 'প্রথম ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। অভিনন্দন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র! অভিনন্দন বিশ্ব!' ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, বিভিন্ন প্রদেশের গভর্নররাই সিদ্ধান্ত নেবেন কোথায় রাখা হবে ভ্যাকসিনগুলি এবং কাদের সেই ভ্যারসিন প্রথমে দেওয়া হবে। তবে ট্রাম্প এটাও জানিয়েছেন, ফেডেরাল সরকার চায় প্রবীণ নাগরিক, স্বাস্থ্যসেবা কর্মী এবং ফ্রন্টলাইনারদের প্রথমে টিকা দেওয়া হোক। গত ১১ ডিসেম্বরই মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অগমিনিস্ট্রেশন বা এফডিএ, সেই দেশে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবহারের জন্য ফাইজার-বায়োএনটেক-এর কোভিড ভ্যাকসিনকে অনুমোদন দিয়েছিল।

সোমবার নিউইয়র্কের কুইন্স-এ এক স্যান্ড্রা লিন্ডসে নামে আইসিইউ-তে কর্মরত নার্সকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কোভিড ভ্যাকসিনটি দেওয়া হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে করোনার প্রথম ঢেউ-এর সময় এই নিউইয়র্ক শহরই মহামারির এপিসেন্টারে পরিণত হয়েছিল। কুইন্স-এর লং আইল্যান্ড জিউইস মেডিকেল সেন্টারে লিন্ডসে-কে ভ্যাকসিনটি দেওয়া হয়। তাঁকে লাইভ স্ট্রিমে অভিনন্দন জানান নিউইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমো।

ফাইজার বায়োএনটেক-এর কোভিড টিকাই বিশ্বে প্রথম টিকা হিসাবে গবেষণাগারের বাইরে জনগণকে দেওয়া হচ্ছে। প্রথম টিকাকরণ শুরু হয়েছিল ব্রিটেনে। সেখানে ভ্যাকসিন নেওয়ার পর অনেকেই অ্যালার্জির অভিযোগ করেছিলেন। তবে, লিন্ডসে টিকা নেওয়ার পর জানিয়েছেন, অন্য কোনও ভ্যাকসিন নেওয়ার থেকে তাঁর এই টিকাকে আলাদা কিছু মনে হয়নি। ভ্যাকসিনটি নিরাপদ বলে জনসাধারণকে আশ্বস্ত করেছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, তিনি আশাবাদী ইতিহাসের অত্যন্ত বেদনাদায়ক একটা সময়ের সমাপ্তির সূচনা হল।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এখনও পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ৬৭ লক্ষেরও বেশি। আর কোভিড জনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে, ৩ লক্ষেরও বেশি মানুষের।