আর লুকোছাপা নয়। এবার সরসারি পিপিলস লিবারেশন আর্মিকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন চিনের প্রেসিডেন্ট সি জিংপিং। তিনি বলেছেন, দেশের সার্বভৌম্য রক্ষা করার জন্য  সব থেকে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীকে দৃঢ়়তার সঙ্গে দেশের সীমানা রক্ষারও নির্দেশ দিয়েছেন। তবে লাদাখ সীমান্ত ভারত ও চিনা সেনাদের মুখোমুখি হওয়ার প্রসঙ্গে একটি কথাও উচ্চারণ করেননি চিনা প্রেসিডেন্ট। 

চিনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক সি জিংপিং। পাশাপাশি আজীবন প্রবল ক্ষমতা সম্পন্ন চিনা সেনার প্রধানও ৬৬ বছরের সি জিংপিং। বর্তমানে পিপিলস লিবারেশন আর্মির সদস্য সংখ্যা ২০ লক্ষ। সূত্রের খবর মঙ্গলবারই রাজধানী বেজিং-এ সংসদ অধিবেশন চলাকালীন পিপিলস লিবারেশন আর্মি ও পিপিলস আর্মড পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। সেখানেই তিনি বলেন দেশের সামরিক বাহিনীকে সবথেকে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধের প্রস্তুতিও বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। চিনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম অবশ্য জানিয়েছেন একটি নির্দেষ্ট সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে দেশ। যা দেশের কাছে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

চলতি বছর চিন তার প্রতিরক্ষা বাজেটও ৬.৬ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। বর্তমানে চিন সামরিকবাহিনীর জন্য খরচ করে ১৭৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রতিরক্ষাখাতে ব্যয়কারী দেশের মধ্য চিনের স্থান দ্বিতীয়। প্রথমেই রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। 

চিনা প্রেসিডেন্ট সরাসরি বিষয়টি উত্থাপন না করলেও বেশ কয়েক দিন ধরেই ভারত-চিন সীমান্তে উত্তেজনা ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সিকিম ও লাদাখ সীমান্তে একাধিকবার মুখোমুখি হয়েছে দুই দেশের সৈন্যরা। পূর্ব লাদাখের পানগং টসো এলাকায় রীতিমত যুদ্ধের প্রস্তুতির ছবি ধরা পড়েছে। সেখানে চিন সামান্তে তৈরি হয়েছে এয়ারবেস। যেখানে মোতায়েন রয়েছে যুদ্ধ বিমানও। স্যাটেলাইট ইমেজে ধরা পড়েছে সেই ছবি। দুই দেশের ৩৫০০ কিলোমিটার  লাইন অব একচুয়াল কন্ট্রোল হল ডি ফ্যাক্টো সীমান্ত।  

তবে হাত গুটিয়ে বসে নেই ভারতও।  বিদেশ মন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে ভারত তার সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বরাবরই দায়িত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গী গ্রহণ করেছে। দেশের সার্বভৌম্য ও সুরক্ষার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ভারত। সূত্রের খবর গতকাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তিন বাহিনীর প্রধান ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল ও চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ বিপিন রাওয়াতের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সূত্রের খবর সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে খোঁজ খবর করেন তিনি। অন্যদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।