কিছুক্ষণের জন্য উসকে উঠল ২০০৪ সালের ইন্দোনেশিয়ার স্মৃতি। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ পাপুয়া নিউ গিনির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ওয়াউ শহর কেঁপে ওঠে এক জোরালো ভূমিকম্পে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক গবেষণা কেন্দ্র (ইউএসজিএস) জানিয়েছে রিখটার স্কেলে ওই ভূমিকমম্পের মাত্রা ছিল ৭.০। এরপরই ওই শহরে সুনামি-র সতর্কতা জারি করে মার্কিন প্রশান্ত মহাসাগর সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র। ভূমিকম্পের জেরে এখনও পর্যন্ত কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।  

ইউএসজিএস  জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎস ছিল ওয়াউ শহর থেকে পূর্ব - দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ১৮ কিলোমিটার দূরে উপকূলবর্তী এক অঞ্চলের মাটির ৮৫ কিমি গভীরে। এরপরই ওয়াউ এবং তার আশপাশের প্রায় ৩০০ কিলোমিটার বিস্তৃত উপকূলীয় অঞ্চলে 'বিপজ্জনক সুনামি ঢেউ'-এর সতর্কতা জারি করেছিল মার্কিন প্রশান্ত মহাসাগর সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র। তবে প্রায় এক ঘন্টা পরে তারা জানায় বিপদ কেটে গিয়েছে। সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়। সুনামি না হলেও উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলিতে প্রবল জলোচ্ছাসের সম্ভাবনা রয়েেছে।

প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পটি নথিভুক্ত করা হয়েছিল রিখটার স্কেলে ৭.৩ মাত্রার ভূমিকম্প হিসাবে। পরে অবশ্য তা সংশোধন করে জানানো হয়, রিখটার স্কেলের পাঠ এসেছে ৭.০। এতে করে ওয়াউ শহর ও উপকূলবর্তী ওই অঞ্চলে জোরাালো কম্পন অনুভূত হলেও এখনও অবধি পাপুয়া নিউগিনি-র জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা কেন্দ্র কোনও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহাানির খবর জানায়নি। বিশদ বিবরণ না পাওয়া পর্যন্ত তারা এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে।

ওয়াউ শহরে এর আগে সোনার খনি ছিল। খনিকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল এই ছোট্ট শহর। সেখানকার এক হোটেল মালিক মর্কিন এক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ভূমিকম্প তাঁরা বেশ ভালোমতোই টের পেয়েছেন। কিছুক্ষণের জন্য শহরে আতঙ্কও ছড়িয়েছিল। তাঁর হোটেল-সহ ওই এলাকার প্রায় সব ভবন থেকেই বাসিন্দারা ভূমিকম্পের সময় বাইরে বেরিয়ে এসেছিলেন। তবে তিনিও জানিয়েছেন, কোনও সম্পত্তির কোনও ক্ষতি হয়নি।