কুলভূষণ যাদবকে ২০১৬ সালের ৩রা মার্চ পাকিস্তান গ্রেফতার করে। বলা হয়েছিল বালুচিস্তান থেকে তাঁকে ধরা হয়েছে সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপের জন্য। কিন্তু, ভারত সরকার পরে আন্তর্জাতিক স্তরে অভিযোগ করে কুলভূষণকে ইরান থেকে অপহরণ করে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর একটি দল। এরপর তাঁকে বালুচিস্তান থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দেখানো হয়। পাকিস্তানের অভিযোগ, তাদের ভূখণ্ডে নাশকতার ছক কষছিলেন কুলভূষণ। এই অভিযোগের জেরে    তার পরে কেটে গিয়েছে ৩টে বছর। এই কটি বছরের মধ্যে ঘটে গিয়েছে অনেক কিছু। ঠিক কী কী ঘটেছে এই কয়েক বছরের মধ্যে দেখে নিন- 
৩ মার্চ,২০১৬: পাকিস্তান পুলিশ কুলভূষণকে গ্রেফতার করে ও তাঁকে ভারতের গুপ্তচর বলে ঘোষণা করে।
২৪ মার্চ, ২০১৬: পাকিস্তান থেকে বলা হয় কুলভূষণকে দক্ষিণ বালুচিস্তান থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা এও বলে যে কুলভূষণ বেআইনি ভাবে পাকিস্তানে প্রবেশ করেছেন। সেখান থেকে তিনি ইরানে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন।
২৬ মার্চ, ২০১৬: ভারত থেকে জানানো হয়, ইরান থেকে অপহরণ করা হয়েছে কুলভূষণকে।
২৯ মার্চ, ২০১৬: পাকিস্তানি আদালতে তাঁর বিচার শুরু হলেও তাঁর হয়ে লড়ার কোনও আইনজীবী ছিল না। ভারত থেকে বারবার অনুরোধ করলেও পাকিস্তান মানতে চায়নি। 
১২ এপ্রিল, ২০১৬: বালুচিস্তান সরকার কুলভূষণকে সন্ত্রাস বলে ঘোষণা করে এবং নাশকতা ছড়ানোর অপরাধে তাঁর নামে এফআই করে বালুচিস্তান সরকার। 
১০ই এপ্রিল, ২০১৭: এই ভাবেই কেটে যায় একটা বছর। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী তার ফাঁসির দাবি করে বলে, কুলভূষণ পাকিস্তানে এসে নাশকতা ছড়াচ্ছে। সুতরাং তাঁর একমাত্র সাজা ফাঁসি হতে পারে।
১১ই মার্চ, ২০১৭: এই ঘটনার ঠিক এক দিন পরেই ভারতের তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ সংসদে গিয়ে বলেন, যে করেই হোক কুলভূষণকে ন্যায় বিচার পাওয়াতেই হবে।
২৭ এপ্রিল, ২০১৭: সুষমা স্বরাজ পাকিস্তানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা সরতাজ আজিজকে একটি চিঠি লিখে কুলভূষণের পরিবারের জন্য ভিসার আবেদন জানান। 
৮ মে, ২০১৭: আন্তর্জাতিক আদালত যতদিন না মামলার মীমাংসা করছে, ততদিন যেন কুলভূষণের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ কার্যকর না করে পাকিস্তান। এই আবেদন করে ভারত।  
১৮ মে, ২০১৭: স্থির হয়, চূড়ান্ত বিচারের আগে বিচারপতি হরিশ সালভে লড়বে ভারতের হয়ে।
২৫ ডিসেম্বর, ২০১৭: ভিসা পাওয়ার পরে কুলভূষণের স্ত্রী ও মা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে ইসলামাবাদ যায়।
১৮-২১ ফেব্রুয়ার‍ি, ২০১৯: আন্তর্জাতিক আদালত থেকে জানানো হয়, মামলার শুনানির হবে।