যতই বস্তুনিষ্ঠ বা অবজেকটিভ বলে দাবি করা হোক না কেন, বিজ্ঞানেও কিন্তু রয়েছে লিঙ্গবৈষম্য়। শুধু মহিলা হওয়ার অপরাধেই কয়েকজন বিজ্ঞানী নোবেল পেতে পারেননি।

স্টিফেন হকিংয়ের ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম পড়েননি এরকম পাঠক খুব কমই রয়েছে। বাংলায় এর ভাষান্তর করেছিলেন শত্রুজিৎ দাশগুপ্ত।  সেই অর্থে বিগ ব্য়াং তত্ত্বের কথা আজ কমবেশি সবারই জানা। মহিলা বিজ্ঞানী এডউইন হাবল তাঁর পর্যবেক্ষণের মধ্য়ে দিয়ে দেখিয়েছিলেন, বিশ্বব্রহ্মাণ্ড ক্রমশ বেড়ে চলেছে আর নক্ষত্রপুঞ্জ একে অন্য়কে টক্কর দেওয়ার চেষ্টা করছে। একটি নক্ষত্রপুঞ্জ যত দূরে থাকবে, তত দ্রুত তা ছুটবে। এবং যার পরিণতিতে কোনও একসময়ে সবকটি নক্ষত্রপুঞ্জ মুখোমুখি হয়ে মহাসংঘর্ষের মুখোমুখি হয়ে বিং ব্য়াং তৈরি করবে।

কয়েকহাজার ফোটোগ্রাফিক প্লেট দিয়ে এডইউন দারুণভাবে বিশ্লেষণ করলেন তাঁর এই পর্যবেক্ষণ। তারপর? হাবেল বললেন, তিনি ভেবেছিলেন তিনি নোবেল পাবেন।  সুইডিশ অ্য়াকাডেমি অব সায়েন্স তাঁকে নোবেলের জন্য় ১০২৪ সালে মনোনীত করতে চেয়েছিলেন এটা জেনে যে, তিনি তিনবছর আগে ক্য়ানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিলেন। কিন্তু বেঁচে থাকতে কেউ কিন্তু তাঁকে নোবেলের জন্য় মনোনীত করেননি।

সিসিলিয়া পায়েন ছিলেন এক পদার্থবিদ।  যিনি ১৯২৫ সালে তাঁর পিএইচডি থিসিসে প্রস্তাব করেন, সূর্যের বেশিরভাগটাই তৈরি হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম দিয়ে। কিন্তু সেই সময়ে জ্য়োতির্বিজ্ঞানী হেনরি নরিস রাসেল  তা কার্যত খারিজ করে দেন। যার ফলে সিসিলিয়া তাঁর গবেষণার ফলাফলকে ভুল বলতে বাধ্য় হন। যদিও পরে, হেনরি স্বীকার করে নিয়েছিলেন, সিসিলিয়ার গবেষণা ছিল  নির্ভুল। মনে করা হয়, মহিলা বলেই তাঁর ফলাফলকে অত সহজে নস্য়াৎ করে দিতে পেরেছিলেন হেনরি। যদি ওই সময়ে তা নস্য়াত করা না-হতো, তাহলে সিসিলিয়ার নোবেল জয় কেউ আটকাতে পারত না।

আধুনিক বিজ্ঞানের ইতিহাসে দেখা গিয়েছে, এমন অনেক মহিলা বিজ্ঞানী, তাঁদের প্রাপ্য় সম্মান পাননি। যাঁরা মনে করেন, বিজ্ঞান মানেই বস্তুনিষ্ঠ বা অবজেকটিভ, সেখানে কোনও একপেশে ব্য়াপার নেই, তাঁরা বোধহয় ভুল ভাবেন। কারণ, শুধু মহিলা বিজ্ঞানী হওয়ার  কারণেই একাধিক মহিলা বিজ্ঞানী হয় নোবেল পাননি, নয় তো প্রাপ্য় সম্মান পাননি।