ক্রমবর্ধমান প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল রাষ্ট্রসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত সংস্থা। তারা জানিয়েছে, গত ২০ বছরে বিস্ময়কর হারে বৃদ্ধি পেয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। রাষ্ট্রসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত সংস্থার মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই প্রাকৃতিক দুর্য়োগের সংখ্যা এত ব্যাপক হারে বেড়েছে। তারা আবেদন করেছে, বিশ্বের সব রাজনীতিবিদ এবং বৃহৎ ব্যবসায়ীকে ঐক্যবদ্ধভাবে এর মোকাবিলা করতে হবে।

নইলে শেষের সেইদিন আর বেশি দূরে নেই। জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তন নিয়ে রাষ্ট্রসংঘ বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে বলেছে, এখনই ব্যবস্থা না নেওয়া গেলে পৃথিবী কয়েক কোটি মানুষের কাছে 'জীবন্ত নরকে' পরিণত হবে। তারা আরও বলেছে গত ২০ বছরে বন্যা, ঝড়, খরা, তাপপ্রবহ, ঘূর্ণিঝড়, দাবানল -এর মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা দারুণ বেড়ে গিয়েছে। 'দ্য হিউম্যান কস্ট অফ ডিজাস্টারস ২০০০-২০১৯' অনুসারে, এই ২০ বছরে মোট ৭,৩৪৮ টি বড়মাপের প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটেছে। আর এইসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব পড়েছে ৪২০ কোটি মানুষের জীবনে। শুধু তাই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ২.৯৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতি হয়েছে।

রাষ্ট্রসংঘ জানিয়েছে ১৯৮০ থেকে ১৯৯৯ সালের মধ্যে যতগুলি প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটেছিল, পরের ২০ বছরে দেখা যাচ্ছে বিপর্যয়ের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হযে গিয়েছে। এই ভাবে চলতে থাকলে পরের ২০ বছর এই সংখ্যাটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা ভেবেই দারুণ শঙ্কিত গবেষকরা। রাষ্ট্রসংঘের এই প্রতিবেদনে করোনাভাইরাস মহামারির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তারা বলেছে বেশ কয়েকটি বড় দেশ এই মহামারির মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ও সঠিক প্রস্তুতি নিতে পারেনি। তাই এইসব দেশে  মৃত্যুর সংখ্যাও অনেক বেশি। রাষ্ট্রসংঘের দাবি, তাদের ব্যবস্থাপনায় কোথায় কামতি ছিল তা তাদের প্রতিবেদনে উন্মোচিত করা হয়েছে।

রাষ্ট্রসংঘ এই  বিষয়ে সতর্ক করলেও তাতে কতটা কাজ হবে, তাই নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। রাষ্ট্রসংঘ যে বিষয়টি নিয়ে সব রাজনৈতিক নেতাদের ও বড় ব্যসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, এই কতাজটা প্রায় অসম্ভব। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো অনেক রাষ্ট্রনেতাই জলবায়ু পরিবর্তনের বিপদটি স্বীকার করতে চান না, নিজস্ব রাজনৈতিক স্বার্থে। আবার করোনা মহামারির সময় দেখা গিয়েছে, যেখানে যেখানে নির্বাচন হয়েছে, সেখানে সেখানে লকডাউন, মাস্ক পরার কড়াকড়ি, ইত্যাদি বিধিনিষেধ অনেকটাই শিথিল।