২০১২ সালের নভেম্বরে চিনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল। তারপর থেকে বলতে গেলে একবারও পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। একের পর এক দেশ দখল করে প্রায় অশ্বমেধ যজ্ঞ লাগিয়ে দিয়েছে বিশ্বজুড়ে। ফেব্রুয়ারির শেষদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই মহামারিকে বিশ্বব্যাপী মহামারি হিসাবে ঘোষণা করে। তারপর থেকে সারা বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশ সজাগ হয়েছিল। কিন্তু, করোনাভাইরাসকে ঠেকাতে পারেনি।

এই মহামারির কারণে বিশ্বজুড়ে যে স্বাস্থ্যসংকট দেখা দিয়েছে, গোটা বিশ্বের অর্থনীতিকে তা পঙ্গু করে দিয়েছে। এমনকি সবচেয়ে দক্ষ স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থার বড়াই করত যে দেশগুলি, তারাও এখন কীভাবে এই মতুন ভাইরাস-এর মোকাবিলা করা যায়, তার পথ খুঁজছে। বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা এই ভাইরাসটির টিকা বা নিয়াময়ক ওষুধ হাতড়ে বেরাচ্ছেন। ভাইরাসটি সম্পর্কে যত বেশি সম্ভব জানার চেষ্টা চলছে।


`লকডাউন নয়, বেশি করে করোনা আক্রান্ত হতে হবে তরুণদের, মহামারি বিশেষজ্ঞ দিলেন অভিনব দিশা

বাড়িতে আটঘন্টা তালাবন্ধ ৭ বছরের মেয়ে, করোনা-যোদ্ধা বাবা-মা লড়ছেন রণক্ষেত্রে

শরতেই আসতে চলেছে সুখবর, দুর্গাপূজার আগেই পরাস্ত হতে পারে করোনা-অসুর

তবে বিশ্বের সবকটি দেশেই কী পড়েছে করোনার থাবা? না, বিশ্বে এখনও এমন বেশ কয়েকটি দেশ রয়েছে, যেখানে এখনও অবধি কোভিড-১৯ সমক্রমণের একটিও ঘটনা ঘটেনি। করোনাইরাস সংক্রান্ত বিশ্বব্যপি তথ্যের সবচেটে নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট অনুসারে, এখনও পরিচিত বিশ্বে ১৪টি দেশ রয়েছে, যেখানে এই বিশ্বব্যপী মহামারির আঁচ অবধি পড়েনি। অন্তত এইকটি দেশ থেকে একজনও কোভিড-১৯ আক্রান্তের কথা নথিভুক্ত করা হয়নি। দেশ গুলি দেখে নেওয়া যাক -

অফ্রিকা মহাদেশের -

কোমোরোস
লেসোথো

এশিয়া মহাদেশের -

তুর্কমেনিস্তান
তাজিকিস্থান
উত্তর কোরিয়া

ওশিয়ানিয়া মহাদেশের -

কিরিবাতি
মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ
নাউরু
পালাউ
সামোয়া
সলোমন দ্বীপপুঞ্জ
টোঙ্গা
টুভালু
ভানুয়াতু

চিন থেকেই এই ভাইরাস বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। তাই এশিয় দেশগুলিতে কোভিড-১৯'এর বড় প্রভাব পড়বে এটাই প্রত্যাশিত ছিল। উত্তর কোরিয়া তারমধ্যে ব্যতিক্রম। দক্ষিণ কোরিয়ায় যেখানে ব্যাপক প্রকোপ পড়েছে করোনার, সেখানে কিম জং আন-এর দেশে করোনা ঢুকতেই পারেনি বলে দাবি করা হয়েছে. একইভাবে ইরান এই মহামারির জেরে দারুণ ক্ষতির মুখে পড়লেও তার উত্তরের দেশ তুর্কমেনিস্তানের প্রেসিডেন্টও বলেছেন, তাদের দেশে কোনও করোনার মামলা নেই। করোনাভাইরাস শব্দটাই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর দেখা যাচ্ছে করোনার প্রভাব থেকে এখনও অনেকটাই মুক্ত রয়েছে ওশিয়ানিয়া মহাদেশ, অর্থাৎ দক্ষিণ গোলার্ধেরও একেবারে প্রান্তে থাকা দ্বীপরাষ্ট্রগুলি।