জোতির্বিদরা বলছেন, টেলিস্কোপ প্রয়োজন হবে না, খালি চোখে দেখা মিলবে নিশিমুরার। এছাড়া সৌরজগৎ অতিক্রমের সময় নিশিমুরা আরও উজ্জ্বল হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা-নাসা।

আজ রাতের আকাশ একটি ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছে যা ৪৩৭ বছরে একবার ঘটে। নিশিমুরা নামের একটি ধূমকেতু আজ রাতে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের পথ ধরে পার হবে বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। বিশেষ বিষয় হল এই ধূমকেতুটি গত মাসেই প্রথম আবিষ্কৃত হয়। আজ অর্থাৎ ১২ সেপ্টেম্বর এবং ১৩ সেপ্টেম্বর রাতের আকাশে এটি দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এখানে জেনে রাখা ভালো যে পরের বার এই সুযোগ আসবে ৪৩৭ বছর পর। জোতির্বিদরা বলছেন, টেলিস্কোপ প্রয়োজন হবে না, খালি চোখে দেখা মিলবে নিশিমুরার। এছাড়া সৌরজগৎ অতিক্রমের সময় নিশিমুরা আরও উজ্জ্বল হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা-নাসা। আকাশ পরিষ্কার হতে হবে এবং হালকা আলো থাকতে হবে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ইউরো নিউজ বলছে, সদ্য আবিষ্কৃত ধূমকেতু নিশিমুরা ১৩ সেপ্টেম্বর নিরাপদে পৃথিবী অতিক্রম করলেও, জোতির্বিদদের জন্য উত্তর গোলার্ধে আগামী কয়েক দিন এটি দৃশ্যমান (টেলিস্কোপের সাহায্যে) থাকবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন যে আমাদের সৌরজগতের একটি দূরবর্তী বস্তু ওর্ট ক্লাউডে নিশিমুরার অসঙ্গতি ঘটেছে। এটি স্নো কলে আউস প্যানেলের ক্যানভাস হিসাবে বিবেচিত হয়। নিশিমুরা ধূমকেতুর বৈজ্ঞানিক নাম C/2023 P1। পৃথিবী থেকে উদ্ভূত, এটি ১৭ সেপ্টেম্বর সূর্যের কাছাকাছি যাবে।

এই ধরনের ঘটনা ঘটতে দেখার জন্য, রাত যত গাঢ় হবে, ধূমকেতু দেখার সম্ভাবনা তত বেশি এবং এর উজ্জ্বলতা আরও বেশি হতে পারে। ধূমকেতু দেখার সর্বোত্তম সময় সূর্যোদয়ের প্রায় ৯০ মিনিট আগে বলে জানিয়েছেন NQS সংস্থার পরিচালক। খালি চোখেও দেখা যায়, তবে টেলিস্কোপ থাকলে অভিজ্ঞতা আরও ভালো হবে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানী হিডিও নিশিমুরার নামে ধূমকেতুটির নামকরণ করা হয়েছে। এই ধুমকেতুটি মাত্র এক মাস আগে আবিষ্কৃত হয়েছিল। বলা হয়ে থাকে যে এই ধূমকেতুটি শেষবার আমাদের গ্রহে এসেছিল প্রায় ১৫০০ সালের দিকে। পরের বার দেখা যাবে ২৪৫০ সালে। জোতির্বিদদের উদ্ধৃত করে ইউরো নিউজ বলছে, মঙ্গলবার পৃথিবী থেকে ১২৫ মিলিয়ন বা ১২ কোটি ৫০ লাখ কিলোমিটার দূরত্বে পৃথিবীকে অতিক্রম করবে নিশিমুরা। এসময় এর গতি থাকবে ঘণ্টায় ২ লাখ ৪০ হাজার মাইল। এমনও একটি জল্পনা রয়েছে যে সূর্যের কাছাকাছি যাওয়ার ফলে এর তাপ সম্পূর্ণরূপে হারিয়ে যেতে পারে। এমনটা হলে ধূমকেতু নিশিমুরাকে আর হয়ত দেখা যাবে না।