আরও এক রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ। কলকাতার আরও এক রুদ্ধশ্বাস জয়। যার জন্য অপেক্ষা করছিল কলকাতা নাইট রাইডার্সের আপামর ভক্তরা। শেষ বলে স্কোর সমান করার জন্য কিংস ইলেভেন পঞ্জাবের দরকার ছিল ৬ রান। ব্যাট করছিলেন পঞ্জাবের গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। তিনি এমন একটি অবিশ্বাস্য শট মারেন যে বল সোজা আকাশে উঠে এক্কেবারে বাউন্ডারি থেকে হাফ-আঙুলেরও কম দূরত্বে গিয়ে পড়ে। ফলে ছয় মেরে কলকাতার স্কোর-কে ছোঁয়ার যে চেষ্টা গ্লেন ম্যাক্সওয়েল করেছিলেন তা আর সফল হয়নি। চার রান নিয়ে কলকাতার করা স্কোর থেকে ২ রান দূরে থমকে যায় পঞ্জাবের ইনিংস। আর সেই সঙ্গে ২ রানে ম্যাচ জিতে নেয় কলকাতা। আরএকটু-র জন্য চারটা ছয়ে রূপান্তরিত হয়ে গেলে ম্যাচ সুপার-ওভারে গড়িয়ে যেত। 

এদিন কলকাতার খাড়া করা স্কোর ১৬৪ রান তাড়া করতে নেমে প্রবলভাবে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে থাকেন মায়াঙ্ক আগরওয়াল এবং কেএল রাহুল। প্রথম থেকেই যে গতিতে মায়াঙ্ক ও রাহুল রান তুলছিলেন তাতে কলকাতার থেকে অনেকটাই এগিয়ে ছিল কিংস ইলেভেন পঞ্জাব। একটা সময় মনে হচ্ছিল কেএল রাহুল এবং মায়াঙ্ক হয়তো ১৫ ওভারের মধ্যেই ম্যাচ শেষ করে দেবেন। রান তোলার জন্য কলকাতার পেস বোলার কমলেশ নাগরাকোটিকে এদিন নিশানা করেন রাহুল ও মায়াঙ্ক। কিন্তু, ১৬ ওভারের শুরুতেই মায়াঙ্ক আউট হতেই যেন অশনি সঙ্কেত চলে আসে পঞ্জাবের কাছে। মায়াঙ্ক ৩৯ বলে ৫৬ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। তাঁকে আউট করেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা। হার্ড হিটিং-এর প্রলোভনে পা দিয়ে শুভমন গিলের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন মায়াঙ্ক। 

দীনেশ কার্তিকের সেনসেবল ক্রিকেট ব্যাটিং-এ ভদ্রস্থ স্কোরে পৌঁছল কলকাতা নাইট রাইডার্স। যার জন্য পঞ্জাবের সামনে  রানের জয়ের টার্গেট রাখতে সমর্থ হল কলকাতা নাইট রাইডার্স। যদিও, কার্তিকের আগে শুভমন গিল-এর নামটাই নেওয়া উচিত। তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়া কেকেআর ব্যাটিং-এর ভিতটা একার হাতে তৈরি করেন শুভমন। কিন্তু, শুভমন-এর ব্যাটে রানের বন্যা থাকলেও প্রতি ওভারে কেকেআর-এর রানের গড় খুব একটা ভদ্রস্থ ছিল না। শুভমন গিল-এর সঙ্গে কোনও ব্যাটসম্যানের জুটি-ই তৈরি হচ্ছিল না। দীনেশ কার্তিকের ব্যাটিং সেনসিবল প্রদর্শন এদিন ক্লিক করে যাওয়ায় শুভমন-এর সঙ্গে কাঙ্খিত জুটিটা তৈরি হয়ে যায়। 

শুভমন গিল যখন আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তখন তাঁর নামের পাশে ৪৭ বলে ৫৭ রান। ৫টি বাউন্ডারি মারলেও এদিন একটিও ওভারবাউন্ডারি মারেননি শুভমন। দুর্ভাগ্যক্রমে রানআউট না হলে হয়তো কয়েকটি ওভারবাউন্ডারির ফুলঝুরি তাঁর ব্যাটে দেখা যেত এদিন। 

এবার আসা যাক দীনেশ কার্তিকের কথায়। এদিন ব্যাট করতে নেমেই প্রথম থেকে সেনসিবল ব্যাটিং-এর প্রদর্শন করতে থাকেন কার্তিক। বেশকিছু রান পান দুরন্ত প্লেসমেন্ট গুণে। যার জেরে মাত্র ২১ বলের মধ্যেই অর্ধশতরানের গণ্ডি পার করে ফেলেন। চার মেরে ৪৯ রান থেকে ৫৩ রানে পৌঁছল কার্তিক। শেষমেশ ২৯ বলে ৫৯ রান করে ২০ ওভার চাকালীন রানআউট হন তিনি। তিনি ৮টি বাউন্ডারি এবং ২টি ওভারবাউন্ডারি মারেন তাঁর এই ঝোড়া ব্যাটিং-এর ইনিংসে।