আইপিএলের দ্বিতীয় লেগেও মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের কাছে হারতে হল কলকাতা নাইট রাইডার্সকে। ৮ উইকেট ম্যাচ জিতল রোহিত শর্মার দল। প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ১৪৮ রান করে কেকেআর। জবাবে কুইন্টন ডিককের ৭৮ রানের দুরন্ত ইনিংসের সৌজন্যে ১৯ বল বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে নেয় মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। এদিন টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন কেকেআরের অধিনায়র দীনেশ কার্তিক। কিন্তু শুরুটা মোটেই ভালো হয়নি নাইটদের। এদিন কেকেআরের হয়ে ওপেন করতে নামেন রাহুল ত্রিপাঠী ও শুভমান গি। কিন্তু তৃতীয় ওভারেই ট্রেন্ট বোল্টের বলে আউট হন রাহুল ত্রিপাঠী। তিনি করেন ৭ রান। এরপর ষষ্ঠ ওভারে দ্বিতীয় উইকেট পড়ে কেকেআরের। ৫ রান করে কুলটারনাইলের বলে আউট হন নীতিশ রানা। ৩৩ রানে দ্বিতীয় উইকেট পড়ে নাইটদের। তৃতীয় উইকেটের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে। অষ্টম ওভারে দলের ৪২ রানের মাথায় রাহুল চাহারের বলে বিগ হিট করতে গিয়ে আউট হন শুভমান গিল। তিনি করেন ২১ রান। তার পরের বলেই সদ্য প্রাক্তন কেকেআর অধিনায়কক দীনেশ কার্তিককেও প্যাভেলিয়নের রাস্তা দেখান রাহুল চাহার। কার্তিক করেন ৪ রান। এদিন ব্যাট হাতে ফের নিরাশ করেন আন্দ্রে রাসেল। ১১ তম ওভারে মাত্র ১২ রান করে বুমরার বলে আউট হন তিনি। লাগাতার উইকেট হারিয়ে মারাত্মক চাপে পড়ে যায় কেকেআর।

এরপর ইনিংসের রাশ ধরেন নবনিযুক্ত কেকেআর অধিনায়ক ইয়ন মর্গ্যান ও প্যাট কামিন্স। ধীরে ধীরে দলের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান ২ তারকা ক্রিকেটার। একদিক থেকে রক সলিড হয়ে উইকেট বাঁচিয়ে ব্যাট করে যান মর্গ্যান। অপরদিক থেকে একটু আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ব্য়াট করে দলের স্কোরবোর্ড সচল রাখেন প্যাট কামিন্স। অপরদিকে কেকেআরের ষষ্ঠ উইকেট পাওয়ার জন্য যাবতীয় চেষ্টা ব্যর্থ হয় মুম্বই  ইন্ডিয়ান্সের বোলারদের। লজ্জাজনক জায়গা থেকে কেকেআরকে সম্মানজনক স্কোরে পৌছে দেন ইয়ন মর্গ্যান ও প্যাট কামিন্স জুটি। দুজন মিলে ৮৭ রানের পার্টনারশিপ করেন। অর্ধশতরান করে নজর কাড়েন প্যাট কামিন্স। ২০ ওভার শেষে কলকাতা নাইট রাইডার্সের স্কোর দাঁড়ায় ১৪৮ রানে ৫ উইকেট। ৩৬ বলে ৫৩ রানের অপরাজিত অনবদ্য ইনিংস খেলেন প্যাট কামিন্স। ৫টি চার ও ২টি ছয়ে সাজানো তার ইনিংস। অপরদিকে ২৯ বলে ৩৯ রানের ইনিংস খেলেন নাইট অধিনায়ক ইয়ন মর্গ্যান। ২টি চার ও ২টি ছয় মারেন তিনি।  মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের টার্গেট দাঁড়ায় ২০ ওভারে ১৪৯ রান। 

রান চেজ করতে নেমে দুরন্ত শুরু করেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের দুই ওপেনার অধিনায়ক রোহিত শর্মা ও উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান কুইন্টন ডিকক। রোহিত শর্মা একটু ধরে শুরু করলেও, আক্রমণাত্বক ইনিংস খেলেন ডিকক। ওভার পিছু প্রায় ৯ থেকে ১০ রানের গতিবেগে রান তুলতে থাকে দুই তারকা ব্যাটসম্যান। ম্যাচে ফেরার জন্য প্রথমে উইকেট তুলে নেওয়া খুব দরকার ছিল কেকেআরের। কিন্তু তা করতে ব্যর্থ হন বোলাররা। বেশ কিছু আক্কমণাত্বক শট খেলেন রোহিত শর্মা ও কুইন্টন ডিকক। ৬ ওভারের পাওয়ার প্লে শেষের আগেই নিজেদের মধ্যে অর্ধশতরানের পার্টনারশিপ পূরণ করে ফেলেন রোহিত-ডিকক জুটি। পাওয়ার প্লের পরও নিজের আক্রমণাত্বক ব্যাটিং চালিয়ে যান ডিকক। নিজের হাফ সেঞ্চুরিও পূরণ করে ফেলেন প্রোটিয়া তারকা। তবে ১১ তম ওভারে দলের ৯৪ রানের মাথায় প্রথম উইকেটের পতন হয় মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের। শিবম মাভির বলে দীনেশ কার্তিকের হাতে ক্যাচ আউট হন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক রোহিত শর্মা। ৩৬ বলে ৩৫ রান করেন হিটম্যান। কিন্তু মুম্বইয়ের ইনিংস শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে করিয়ে দেয় রোহিত-ডিকক জুটি। 

এরপর ক্রিজে আসেন সূর্যকুমার যাদব। ডিককের সঙ্গে জুটি বেধে মুম্বই ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু দ্বিতীয় উইকেট পাওয়ার জন্য বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি কেকেআরকে। ১৪ তম ওভারে দলের ১১১ রানে দ্বিতীয় উইকেট পড়ে মুম্বইয়ের। বরুণ চক্রবর্তীর বলে বোল্ড হয়ে যান  সূর্যকুমার যাদব। ১০ রান করেন তিনি। এরপর ক্রিজে আসেন হার্দিক পান্ডিয়া। অপরদিকে থেকে নিজের অনবদ্য ইনিংস চালিয়ে যান কুইন্টন টিকক। ১৫ ওভার শেষে মুম্বইয়ের স্কোর দাঁড়ায় ১২৭ রানে ২ উইকেট। ১৬ তম ওভারে পরপর দুটি চার ও একটি ছয় মেরে রানের গতিবেগ বাড়ান হার্দিক পান্ডিয়া। ১৬ ওভার শেষে মুম্বইয়ের স্কোর দাঁড়ায় ১৪১ রানে ২ উইকেট। ১৭ তম ওভারেই জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয় মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। ৪৪ বলে ৭৮ রান করে অপারজিত থাকেন কুইন্টন ডিকক ও ১১ বলে ২১ রান করে অপরাজিত থাকেন হার্দিক পান্ডিয়া। ৩ ওভার ১ বল বাকি থাকতেই জয় পেয়ে যায় মুম্বই। এই জয়ের ফলে ফের লিগ টেবিলের শীর্ষে পৌছে গেল রোহিত শর্মার দল।

আরও পড়ুনঃস্ত্রীর যৌনতার টানেই কি চলছে না রাসেলের মাসেল পাওয়ার,দেখুন জামাইকান মডেলের সুপার হট ছবির অ্যালবাম

আরও পড়ুনঃশুভমান গিলের সঙ্গে কি বিয়ে হচ্ছে সচিন কন্যা সারার, নেট দুনিয়ায় চরম শোরগোল

আরও পড়ুনঃসেক্সি ও হটনেসে মাথা ঘুরিয়ে দেবেন ব্রাভোর বান্ধবী, বিয়ে না করেই বাচ্চা নিয়ে সুখী গৃহকোণ সিএসকে তারকার