মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে। পাহাড়ে রাজনৈতিক সমীকরণেও বিনয় তামাং পন্থী গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সঙ্গে সমঝোতার সম্পর্কই রয়েছে তৃণমূলের। কিন্তু এবার সেই বিনয় তামাংই গোর্খাল্যান্ড ইস্যু নিয়ে তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়ালেন। সরাসরি না বললেও পরোক্ষে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের কাছে পৃথক গোর্খাল্যান্ড-এর দাবি জানালেন জিটিএ চেয়ারম্যান। 

বিনয় তামাং এ দিন নাগরাকাটার সিপচুতে বলিদান দিবসে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গোর্খাল্যান্ড-এর দাবিতে সরব হন। তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে পর পর তিনবার পাহাড়ের মানুষ পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্য পাওয়ার আশাতেই বিজেপি সাংসদদের ভোটে জিতিয়েছেন। ফলে অন্য কোনওরকম পরীক্ষা নিরীক্ষাতেই গোর্খাল্যান্ড সমস্যার সমাধান হবে না বলে মনে করিয়ে দেন বিনয় তামাং। একই সঙ্গে তিনি জানান, হয় পৃথক রাজ্য হিসেবে গোর্খাল্যান্ড- এর ঘোষণা করা হোক। আর তা না হলে কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা হোক। কেন্দ্রের যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে, সেকথাও মনে করিয়ে দেন জিটিএ প্রধান। 

বিনয় তামাংয়ের এই দাবি নিঃসন্দেহে তৃণমূলের কাছে অস্বস্তির কারণ। বিনয় তামাংয়ের সাহায্য নিয়েও এ বার লোকসভা নির্বাচনে পাহাড়ে ছাপ ফেলতে ব্যর্থ হয়েছে তৃণমূল। কয়েকদিন আগে দার্জিলিংয়ে সিএএ এবং এনআরসি বিরোধী মিছিল ও সভা করে এসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার কয়েক দিনের মধ্যেই বিনয় তামাংয়ের এই অবস্থান পাহাড় নিয়ে শাসক দলের চিন্তা বাড়়তে বাধ্য। 

তবে এ দিনও অবশ্য ভারসাম্যের রাজনীতিই করতে চেয়েছেন বিনয়। নাগরিকত্ব আইন, এনআরসি নিয়ে কেন্দ্রের পদক্ষেপের সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, অসমে যে সাড়ে ১৯ লক্ষ মানুষ এনআরসি-র চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে এক লক্ষ গোর্খাও রয়েছেন। তিনি বলেন, '২০১৪-তে যাঁরা এ দেশে এসে আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁরাও নাগরিকত্ব পাবেন। আর আমরা যুগ যুগ ধরে ভারতে থেকেও নাগরিকত্বের স্বীকৃতি হারাচ্ছি। শুধু পাহাড় নয়, গোটা দেশের গোর্খাদের কথা ভেবেই আমরা নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা করছি।'  নাগরিকত্ব আইন এবং এনআরসি বিরোধী অবস্থান নেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানান তিনি।

রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূল ঘোষিতভাবে পৃথক গোর্খাল্যান্ড-এর বিরোধী। ফলে তাদের সঙ্গে বেশি ঘনিষ্ঠতা মানে যে পাহাড়ে তিনি জনসমর্থন হারাবেন, তা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় বিনয়ের। বরাবরই গোর্খাল্যান্ড ইস্যুকে খুঁচিয়ে তুলেই পাহাড়ে জনসমর্থন আদায়ের পথে হেঁটেছেন পাহাড়ের রাজনৈতিক নেতারা। বিনয়ের পক্ষে তাই বেশি দিন গোর্খাল্যান্ড ইস্যুকে দমিয়ে রেখে পাহাড়ে রাজনৈতিক আধিপত্য বজায় রাখা সম্ভব নয়। 

২০১১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তদানীন্তন মোর্চা সুপ্রিমো বিমল গুরুং-এর নেতৃত্বে মোর্চা সমর্থক, কর্মীরা পাহাড় থেকে ডুয়ার্সের নাগরাকাটার সিপচু দিয়ে জলপাইগুড়িতে পুলিশ ব্যারিকেড ভেঙে প্রবেশ করার চেষ্টা করে। সে দিন পুলিশের গুলিতে মোট ৫ জন মোর্চা কর্মীর মৃত্যু হয়। সেই দিনটিকে ৮ ফেব্রুয়ারিকে বলিদান দিবস হিসেবে পালন করে আসছে মোর্চা।