করোনায় মৃত্য়ুর সংখ্যা নিয়ে রাজ্য়ের আপত্তির মাঝেই ফের এক প্রৌঢ়ের মৃত্যু হল সংক্রমণে। নয়াবাদের প্রৌঢ়ের চিকিৎসা চলছিল পিয়ারলেস হাসপাতালে। বুধবার এই প্রৌঢ়ের মৃত্যু নিয়ে রাজ্য়ে করোনায় মৃতের সংখ্য়া বেড়ে দাঁড়াল ৭। 

প্রচার পেতে করোনা রোগী বলছে বেসরকারি হাসপাতাল, মৃত্য়ুর সংখ্যা নিয়ে আপত্তি মুখ্য়মন্ত্রীর...

নয়াবাদের এই প্রৌঢ়ই এগড়ায় কিছুদিন  আগে বিয়েবাড়িতে গিয়েছিলেন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, শনিবার রাতে হঠাৎ করেই ওই বৃদ্ধের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এরপর থেকে সঙ্কটজনক অবস্থায় ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল তাঁকে। ইতিমধ্য়েই রেচন প্রক্রিয়ার সমস্যা শুরু হয়েছিল তাঁর। সূত্রের খবর, মেদিনীপুরে ওই বিয়েবাড়িতে বেশকিছু বিদেশি অতিথি এসেছিলেন। তাদের থেকেই করোনা সংক্রমণ হয়ে থাকতে পারে তাঁর। 

কলকাতার বুকে ধেয়ে আসছে ঝড়, লকডাউনে তাণ্ডব চালাবে কালবৈশাখী..

কদিন আগেই জ্বর এবং শ্বাসকষ্ট নিয়েই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ওই প্রৌঢ়। পরে তাঁর লালারসের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। যেখানে করোনা পজিটিভ আসে। এদিকে,বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে করোনায় মৃতের সংখ্য়া নিয়ে এবার সংবাদমাধ্য়মকে সতর্ক হতে বললেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য়ে করোনার সংক্রমণে ৬ জনের মৃত্য়ুর বিষয়টিতে একমত নন তিনি। মুখ্য়মন্ত্রী মতে, কিছু বেসরকারি হাসপাতাল প্রচার পেতে করোনা রোগী ভর্তি হয়েছে বলছে। সংবাদ মাধ্য়মের উচিত সরকারি নথিতে বিশ্বাস করা।  

দিদির অনুপ্রেরণায় কাজ করছেন দিলীপ, বিজেপি সভাপতির মুখে একী কথা...

তিনজন আক্রান্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি গিয়েছেন ইতিমধ্য়েই। তবে প্রতিদিন বেড়েই চলেছে করোনা সংক্রমিত রোগীর সংখ্য়া। পরিসংখ্যান বলছে, ইতিমধ্য়েই রাজ্য়ে ৩৭ ছুঁয়েছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। মৃত বেড়ে ৬ হয়েছে। যদিও মুখ্য়মন্ত্রীর দাবি, আজ বিকেল ৪টে পর্যন্ত রাজ্যে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে করোনায়। ৩৭ জনের মধ্যে ৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি গিয়েছেন। এখন ৩১ জন পজিটিভ। যাদের মধ্যে ১৭ জনই ৪টি পরিবারের সংখ্যার যোগফল। 

মৃতদের মধ্য়ে একজন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন।  অন্যজনের মৃত্যু হয়েছে কিডনির সমস্যায়। এ বিষয়ে সরকারি তথ্যের উপর চোখ রাখতে বলেন মুখ্য়মন্ত্রী।  এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে দায়িত্বশীল হতে পরামর্শ দেন মুখ্য়মন্ত্রী।  পাশাপাশি যেসব বেসরকারি হাসপাতাল প্রচার পাওয়ার জন্য এই সব কাজ করছেন তাদেরও সতর্ক  করে দেন মুখ্য়মন্ত্রী। মমতা বলেন, লড়াইয়ের এই সময়ে এমন প্রচার চালাবেন না।

এদিনই মারা যান বেলঘড়িয়ার প্রৌঢ়। জানা যায়, মঙ্গলবারই ওই ব্যক্তির করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। গত কয়েকদিন ধরেই হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি।
৫৭ বছরের ও‌ই ব্যক্তি রথতলা এলাকায় রোল-চাউমিনের দোকান চালাতেন। তাঁর ভিন রাজ্য়ে বা দেশে যাওয়ারও কোনো ইতিহাস নেই।  কীভাবে তিনি আক্রান্ত হলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পরিবারে আশঙ্কা কোনও ক্রেতার থেকে তাঁর সংক্রমণ হয়ে থাকতে পারে। সূত্রের খবর,সম্প্রতি  ওই ব্যক্তির এক আত্মীয় মুম্বই থেকে ফিরেছিলেন। পরিবারের বাকিদেরও খোঁজ নিচ্ছে  প্রশাসন।

বেলঘড়িয়ার জেনিথ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ওই প্রৌঢ়। কিডনি জনিত একাধিক সমস্যা নিয়ে ভুগছিলেন তিনি। তার জন্য বার বার ডায়ালিসিস করাতে জেনিথে যেতেন। ডায়ালিসিস করাতে গিয়েই অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই ব্যক্তি। যদিও সরকারের হিসাবে ওই ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাননি। গতকালই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান তিন করোনা সংক্রমিত। এদের মধ্য়ে এক আমলা পুত্র ছাড়াও ছিলেন স্কটল্য়ান্ড ফেরত তরুণী ও বালিগঞ্জের লন্ডন ফেরত ছেলের বাবা।