ঘূর্ণিঝড় যশের প্রভাবে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় চলছে বৃষ্টি। একদিকে যশের দাপট, অন্যদিকে ভরা কোটাল। সব মিলিয়ে ফুলে ফেঁপে উঠেছে গঙ্গা। পাড় ছাড়িয়ে গঙ্গার জল ঢুকেছে বেলুড় মঠে। বিস্তীর্ণ এলাকা জলে থই থই মঠ প্রাঙ্গণের। গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন মহারাজরা। 

 

তবে জল এখনও খুব বেশি এলাকা জুড়ে ছড়াতে পারেনি বলেই জানা গিয়েছে। মূল মন্দির প্রাঙ্গণের কিছু চত্ত্বরে গঙ্গার জল পৌঁছে গিয়েছে। এদিকে, নির্ধারিত সময়ের কিছু আগেই ভদ্রক জেলার ধামারায় আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় যশ (Cyclone Yaas)।  ইন্ডিয়ান মেটিরিওলজিক্যাল   ডিপার্টমেন্টের পূর্বাভাস অনুযায়ী  আগামী ২ ঘণ্টারও ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চালাবে এই ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়। তবে ল্যান্ডফলের আগে থেকেই বাাংলা ও ওড়িশা উপকূলবর্তী এলাকায় রীতিমত তাণ্ডব চালাতে শুরু করেছে ঘূর্ণিঝড়। 

ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া সমাপ্ত হওয়ার পরেও দ্রুত আবহাওয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া দফতর। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এটি বালাসোরের দক্ষিণ উপকূল অতিক্রম করে স্থলভাগে আছড়ে পড়বে। ল্যান্ডফলের সময় ওড়িশায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছেন বাংলা, ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডে প্রবল বৃষ্টি হবে।

এরই সাথে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে ভরা কোটালের ফলে রাজ্যে আরও বেশি ক্ষতি হয়েছে।  কলকাতা, হাওড়া, হুগলিতে ঘন্টায় ৭৫ থেকে ১১০ কিমি বেগে হাওয়া বইবে। ভরা গঙ্গায় জলস্তর বাড়বে। কলকাতার একাধিক এলাকায় গঙ্গার জল ঢুকবে। তার জন্য অবশ্য ব্যবস্থা করা আছে। উপকূল এলাকায় ঘন্টায় ১৩০ কিমি পর্যন্ত গতিবেগ হতে পারে। নীচু এলাকায় বন্যা হয়ে গিয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগণায় ১৫ টি বাঁধ ক্ষতির সম্মুখীন। গোসাবার গ্রামে বিদ্যাধরী নদীর জল ঢুকে গিয়েছে। 

তিনি আরও জানান, পূর্ব মেদিনীপুরে ৫১টি বাঁধ ভেঙেছে। দীঘা, শঙ্করপুর, তাজপুর স্টেশন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এই অবধি ২০ হাজার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যদিও পানীয় জল পরিষেবা স্বাভাবিক রয়েছে।