লাল বেনারসি, রক্তচন্দনের টিপ, পায়ে আলতা, মাথায় মুকুট পরে বসেছিল  চার বছরের ছোট্ট মেয়েটি। দেখতে ভারি মিষ্টি লাগছিল তাকে। তাকেই দেবী রূপে পুজো করা হল বাগুইআটির দত্তবাড়িতে। এমন কুমারী পুজো তো এখন অনেক জায়গাতেই হয়, এতে বিশেষত্ব কিছু নেই। কিন্তু বিশেষত্ব যেটা রয়েছে, তা হল এই চার বছরের ছোট্ট মেয়েটির নাম ফতেমা। সারা দেশে যখন অসহিষ্ণু পরিবেশ তৈরি হয়েছে  তখন এক মুসিলম কন্যাকে কুমারী রূপে পূজো করে দৃষ্টান্ত গড়ল দত্তবাড়ি। 

কাশ্মীর ভ্রমণের সময় এক মুসলিম মাঝির শিশুকন্যাকে কুমারী রূপে পুজো করেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ। স্বামীজির সেই পুজোকেই এবার আদর্শ করেছে দত্তবাড়ি।

বাগুইআটির দত্ত বাড়ির পুজো শুরু হয়েছিল বছর ছয়েক আগে। বাড়ির কর্তা, কামারহাটি পুরসভার ই়ঞ্জিনিয়ার তমাল দত্ত জানান, প্রথম বছর থেকেই অষ্টমীতে কুমারী পুজো শুরু করেন তাঁরা। প্রথমবার ব্রাহ্মনকন্যাকে পুজো করা হলেও পরে আর জাতপাতের ভেদ রাখেননি তাঁরা।  ২০১৪ সালে অব্রাহ্মণ পরিবারের মেয়ে, পরের বছর ডোম পরিবারের শিশুকন্যাকে পুজো করা হয় কুমারী রূপে। 

প্রতিবছর পুজোর মাস কয়েক আগে থেকে কুমারীর খোঁজ করেন তমাল ও তাঁর স্ত্রী মৌসুমী। এবার কামারহাটির বাসিন্দা মহম্মদ ইব্রাহিমের ভাগ্নি  ফতেমাকেই বেছে নিয়েছেন তাঁরা।