আর কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। তারপরেই উপকূলবর্তী অঞ্চলে আছড়ে পড়তে চলেছে ঘূর্ণিঝড় যশ। যদিও তার অভিমুখ ওড়িশার দিকে ঘুরে গিয়েছে। কিন্তু তা হলেও তার প্রভাব পড়তে চলেছে পশ্চিমবাংলার উপর। আবহাওয়াবিদরা বলছেন মূলত পশ্চিমবঙ্গের দুই মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়তে চলেছে। 

তবে ইতিমধ্যেই নবান্ন থেকে সমস্ত রকম তৎপরতা নেওয়া হয়েছে। তৎপরতা নেওয়া হয়েছে সিইএসসি থেকেও। এমনকি গঙ্গাবক্ষেও নজরদারি চালানো হচ্ছে। কেউ যেন এই সময় গঙ্গাবক্ষে না নামে সেদিকে নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। এমনকি যে সমস্ত জাহাজ রয়েছে সে সমস্ত জাহাজকে নোঙরের সাথে ভালো করে বেঁধে রাখা হয়েছে। কারণ আমফানের প্রভাব ইতিমধ্যে সবার মনে রয়ে গেছে। তাই যশ যেন আর কোন ক্ষতি করতে না পারে সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে প্রশাসনিক স্তর থেকে।

ইতিমধ্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচার চালানো হয়েছে। সাধারণ মানুষ যারা ফুটপাতে থাকেন তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেশি যারা গঙ্গার কাছাকাছি বা জেটিঘাট গুলোতে কাছাকাছি থাকেন তাদেরকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কোনরকম ক্ষয়ক্ষতি যেন সাধারণ মানুষের ওপর যেন না হয় সেই দিকেই তৎপর চালাচ্ছে পুলিশ। তৎপরতা রয়েছে পুরসভার কর্মীদের মধ্যেও। 

এদিকে, যশ বর্তমানে বাংলা থেকে বেশ কিছুটা সরে গিয়ে গতিপথ বদলিয়েছে। যার জেরে সামান্য হলেও পরিবরিতন হল আবহাওয়ার পূর্বাভাস। যে ভয়ানক ঝড়ের আগাম সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে তা বর্তমানে কিছুটা হলেও কমল।

বুধবার এই বৃষ্টির দাপট বাড়বে- দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও বর্ধমানে। বৃহস্পতিবার মালদহ, দার্জিলিং, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, সিকিম, বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বর্ধমান ও মুর্শিদাবাদে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কমবে ঝড়ের দাপটও। কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকাতে বৃষ্টি হবে মাঝারি, ঝড়ো হাওয়া বইবে ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার বেগে। বেশ কিছু জেলার ক্ষেত্রে এই গতি বেড়ে দাঁড়াবে ১১০-১১৫ কিলোমিটারের কাছাকাছি। 

রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা ২৫ ও ২৬ তারিখে। তবে যশের দাপট সেভাবে প্রভাব ফেলবে না বাংলায়। বৃষ্টি হবে ২৫ তারিখ- পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া ও হুগলিতে।